পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহ কমাতে এবার সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা যাচ্ছে পাকিস্তানকে। ইরানের এক উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, আমেরিকার পাঠানো আলোচনার প্রস্তাব পাকিস্তানের মাধ্যমেই তাঁদের কাছে পৌঁছেছে। তবে শান্তি-বৈঠকের স্থান হিসেবে কেবল পাকিস্তান নয়, তুরস্কের নামও বিকল্প হিসেবে ভাবছে ইরান।
শান্তি আলোচনার বিকল্প কেন্দ্র: পাকিস্তান ও তুরস্ক
বুধবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরান ও আমেরিকার মধ্যে শান্তি-আলোচনা আয়োজনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শাহবাজ শরিফের সেই প্রস্তাবটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পুনরায় পোস্ট (Repost) করায় জল্পনা তৈরি হয়েছে যে, ওয়াশিংটন এই প্রস্তাবে সায় দিচ্ছে। অন্যদিকে, রয়টার্সকে ওই ইরানি আধিকারিক জানিয়েছেন, তুরস্কও এই সমঝোতার জন্য লাগাতার যোগাযোগ রাখছে এবং তেহরান তুরস্কের ভূমিকাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে। তুরস্কের শাসকদলের নেতা হারুন আর্মাগানও নিশ্চিত করেছেন যে, দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে তাঁরা সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন।
ট্রাম্পের ‘সুর নরম’ ও ইরানের অবস্থান
যুদ্ধের শুরুর দিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’-এর দাবিতে অনড় থাকলেও, যুদ্ধের চতুর্থ সপ্তাহে এসে তাঁর সুরে কিছুটা নমনীয়তা লক্ষ্য করা গেছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে ‘ইতিবাচক আলোচনা’ চলছে। তবে ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বেঘায়েই এই আলোচনার খবর সরাসরি স্বীকার করেননি। তাঁর মতে, “আমেরিকার কূটনীতির ওপর ভরসা করা কঠিন।” তেহরান এখনও প্রকাশ্যে ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে চলেছে এবং জানিয়েছে যে, তাঁদের সেনাবাহিনী বর্তমানে দেশরক্ষার কাজেই বেশি মনোযোগী।
১৫ দফা প্রস্তাব ও অনিশ্চয়তা
পাকিস্তান ঠিক কী ধরনের প্রস্তাব ইরানে পাঠিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প যুদ্ধ থামানোর পূর্বশর্ত হিসেবে যে ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছিলেন, পাকিস্তান সেই প্রস্তাবই পৌঁছে দিয়েছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। তবে ইরান সরকার ইঙ্গিত দিয়েছে যে, আলোচনা হলে তা পাকিস্তান অথবা তুরস্কে হতে পারে।
ইজ়রায়েলের প্রতিক্রিয়া
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে এই সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ইজ়রায়েল সরকার কী ভাবছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সূত্রের খবর, ইজ়রায়েলের নিরাপত্তা পরিষদকে আমেরিকার এই প্রস্তাব সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক তৎপরতা এবং তুরস্কের মধ্যস্থতা শেষ পর্যন্ত ইরান ও আমেরিকার মধ্যে কোনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতি আনতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

