খেলার মাঠের পর এবার কি রাজনীতির ময়দানে নতুন ইনিংস শুরু করতে চলেছেন প্রাক্তন টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজ? মঙ্গলবার রাতে নিউ টাউনের একটি অভিজাত হোটেলে বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে লিয়েন্ডারের দীর্ঘ বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর, ঘাসফুল শিবির ছেড়ে পদ্ম শিবিরে যোগ দিতে পারেন এই কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ।
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক
জানা গিয়েছে, নিউ টাউনের যে হোটেলে বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা নিতিন নবীন অবস্থান করছেন, সেখানেই পৌঁছান লিয়েন্ডার পেজ। হোটেলের লবিতে তাঁকে বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতার সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। উপস্থিত নেতাদের অধিকাংশই ভিন রাজ্যের বলে জানা গিয়েছে। সূত্রের দাবি, প্রায় আট মাস আগে দিল্লিতেই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে লিয়েন্ডারের প্রাথমিক যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল। তবে এই বৈঠক প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব এখনই মুখ খুলতে নারাজ।
তৃণমূল থেকে দূরত্ব ও নতুন সমীকরণ
লিয়েন্ডার পেজের রাজনৈতিক সফরনামা বেশ বৈচিত্র্যময়:
- তৃণমূলে যোগদান: ২০২১ সালের ২১ নভেম্বর গোয়ায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।
- নিষ্ক্রিয়তা: ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিলেও গত কয়েক বছরে দলের কোনো কর্মসূচিতেই তাঁকে সক্রিয়ভাবে দেখা যায়নি।
- বর্তমান প্রেক্ষাপট: দীর্ঘদিনের নিষ্ক্রিয়তার পর বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে এই সাক্ষাৎ তাঁর দলবদলের জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
টেনিস মহলে বিস্ময়
গত ৮ নভেম্বর বেঙ্গল টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের (BTA) সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছেন লিয়েন্ডার। এর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁর এই সম্ভাব্য রাজনৈতিক পদক্ষেপ টেনিস কর্তাদের বিস্মিত করেছে। ক্রীড়া মহলের একাংশের ধারণা, অল ইন্ডিয়া টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের (AITA) শীর্ষ পদে বসার লক্ষ্যেই হয়তো তিনি রাজনৈতিক সমর্থন নিশ্চিত করতে চাইছেন। তবে আসন্ন নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হবেন কি না, তা নিয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলেনি।
জল্পনা ও বাস্তবতা
২০২১ সালে প্রশান্ত কিশোরের উদ্যোগে তৃণমূলে এলেও লিয়েন্ডার আদতে কতটুকু সক্রিয় ছিলেন তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গিয়েছে। মঙ্গলবার রাতের এই বৈঠকের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, লোকসভা নির্বাচনের আগে লিয়েন্ডার পেজকে সামনে রেখে চমক দিতে পারে গেরুয়া শিবির। এখন দেখার, টেনিস কোর্টের ‘লি’ রাজনীতির কোর্টে পদ্ম হাতে তুলে নেন কি না।

