দেশজুড়ে এলপিজি (LPG) সংকটের মেঘ কাটার ইঙ্গিত মিলল। যুদ্ধবিধ্বস্ত পশ্চিম এশিয়ার টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই সব বাধা পেরিয়ে ভারতের গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দরে এসে পৌঁছাল রান্নার গ্যাস বহনকারী বিশাল ট্যাঙ্কার। সোমবার ৫৪,০০০ টন এলপিজি নিয়ে ‘শিবালিক’ নামক জাহাজটি বন্দরে নোঙর করেছে। জি নিউজ (Zee News) সূত্রে খবর, দেশের বাজারে জোগানের ঘাটতি মেটাতে শীঘ্রই দ্বিতীয় জাহাজটিও ভারতে পৌঁছাবে।
কূটনৈতিক তৎপরতায় কাটল ‘হরমুজ’ জট
ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় ভারতের জ্বালানি আমদানিতে বড়সড় সংকট তৈরি হয়েছিল। প্রণালীর দুই প্রান্তে আটকে পড়েছিল এলপিজি ও প্রাকৃতিক গ্যাস বহনকারী একাধিক জাহাজ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সরাসরি ইরান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসে। এই কূটনৈতিক আলোচনার পরেই জট কাটে। ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাতালি ভারতকে ‘ইরানের বন্ধু’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভারতীয় জাহাজ চলাচলের বিশেষ অনুমতি প্রদান করা হয়। এর ফলে ‘শিবালিক’ ও ‘নন্দা’ নামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভারতীয় ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে আসার সবুজ সংকেত পায়। গত ৭২ ঘণ্টায় মোট তিনটি গ্যাস বহনকারী জাহাজ ভারতে প্রবেশ করেছে বা প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে।
বাণিজ্যিক এলপিজি বিধি শিথিল: ২০ শতাংশ সরবরাহের নির্দেশ
গ্যাসের জোগানে টান পড়ায় কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক বাণিজ্যিক এলপিজি বুকিং এবং ডেলিভারির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। তবে সোমবার ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে আসা নতুন নির্দেশিকায় এই বিধি কিছুটা শিথিল করা হয়েছে:
- নতুন নিয়ম: কোনও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান মাসে মোট যতটা এলপিজি ব্যবহার করে, আপাতত তার ২০ শতাংশ ডেলিভারি দেওয়া যাবে।
- উদাহরণস্বরূপ: যদি কোনও রেস্তোরাঁ বা প্রতিষ্ঠানের মাসে ১০০টি ১৯ কেজির সিলিন্ডারের চাহিদা থাকে, তবে তারা আপাতত ২০টি সিলিন্ডার পাবে।
জোগান স্বাভাবিক হওয়ার পথে
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক সূত্রে খবর, নতুন করে কোনও বড় ধরনের ভূ-রাজনৈতিক সংকট তৈরি না হলে আগামী সপ্তাহ থেকেই রান্নার গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক হতে শুরু করবে। মুন্দ্রা বন্দরে গ্যাসের বিপুল আমদানির ফলে ঘরোয়া এবং বাণিজ্যিক— উভয় ক্ষেত্রেই বর্তমান বিধিনিষেধ আরও শিথিল হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল।

