লোকসভা কক্ষে ‘অভব্য আচরণের’ দায়ে সাসপেন্ড হওয়া আট জন বিরোধী সাংসদের শাস্তি আজ, মঙ্গলবার প্রত্যাহার করে নিতে পারেন স্পিকার ওম বিড়লা। সোমবার স্পিকারের ডাকা এক বিশেষ বৈঠকে এই বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে বলে লোকসভা সচিবালয় সূত্রে খবর। প্রায় দেড় মাস ধরে সংসদের অধিবেশন থেকে নিলম্বিত হয়ে রয়েছেন এই সাংসদরা।
ক্ষমা ও স্পিকারের কড়া বার্তা
গত শুক্রবার সংসদের হইচইপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই বিহারের কিষাণগঞ্জের কংগ্রেস সাংসদ মহম্মদ জাভেদ সাসপেন্ড হওয়া সতীর্থদের ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য স্পিকারের কাছে জোরালো সুপারিশ করেন। তবে এ ধরনের আচরণকে যে তিনি হালকাভাবে নিচ্ছেন না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন ওম বিড়লা। তিনি সাফ জানান:
“সভার মধ্যে বেঞ্চে উঠে এ ধরনের আচরণ করলে শাস্তি অনিবার্য। এই বিষয়ে কোনও রকম আপস করা হবে না।”
সাসপেন্ড হওয়া সাংসদদের তালিকা
সাসপেন্ড হওয়া আট জন সাংসদের মধ্যে সাত জনই কংগ্রেস দলের সদস্য। তালিকায় রয়েছেন:
- কংগ্রেস: গুরজিত সিংহ আউজলা, হিবি ইডেন, সি কিরণকুমার রেড্ডি, অমরিন্দর সিংহ রাজা ওয়ারিং, মনিক্কম টেগোর, প্রশান্ত পাড়োলে এবং ডিন কুরিয়াকোসে।
- সিপিএম: এস ভেন্টাকেশন।
‘মকর দ্বারে’ বিক্ষোভে নিষেধাজ্ঞা ও বিতর্ক
সাংসদদের শাস্তি প্রত্যাহারের খবরের পাশাপাশি সংসদ চত্বরে বিক্ষোভের ধরণ নিয়েও বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে একটি ছবি প্রকাশ করে দাবি করেছেন যে, রাহুল গান্ধী-সহ অন্যান্য বিরোধী সাংসদরা মকর দ্বারের সামনে বসে চা খাচ্ছেন। শাসক শিবিরের দাবি, এই ধরনের কর্মকাণ্ডে সংসদের গরিমা নষ্ট হচ্ছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শাসক দল পরিকল্পনা করছে যে, আগামী দিনে মকর দ্বারের সিঁড়িতে বসে বা দাঁড়িয়ে সব ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হতে পারে। সংসদ চত্বরের পবিত্রতা বজায় রাখতেই এই কঠোর পদক্ষেপের কথা ভাবা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।

