আইপিএল ২০২৬ শুরুর আগেই বড়সড় ধাক্কা খেল গতবারের রানার্স-আপ দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। চোটের কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিস করার পর, এবার আসন্ন আইপিএলেও অনিশ্চিত হয়ে পড়লেন অজি তারকা প্যাট কামিন্স। সূত্রের খবর, এবারের মরসুমে হয়তো মাঠের বাইরেই থাকতে হতে পারে তাঁকে। কামিন্সের অনুপস্থিতিতে দলের অধিনায়কত্বের ব্যাটন কার হাতে উঠবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে হায়দরাবাদ শিবিরে।
অধিনায়কত্বের দৌড়ে এগিয়ে দুই তরুণ তুর্কি
কামিন্সের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ভারতীয় দলের দুই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটারের নাম জোরালোভাবে উঠে আসছে। তাঁরা হলেন ঈশান কিশন এবং অভিষেক শর্মা। যদিও অভিজ্ঞতা এবং সাম্প্রতিক ফর্মের বিচারে ঈশান কিশনই দৌড়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
পরিসংখ্যানের লড়াই:
- ঈশান কিশন: সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে ৯ ম্যাচে ৩১৭ রান করেছেন। আইপিএলে ১১৯ ম্যাচে ২৯৯৮ রানের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর (গড় ২৯.১০, স্ট্রাইক রেট ১৩৭.৬৪)। গত মরসুমে হায়দরাবাদের হয়েই কেরিয়ারের প্রথম আইপিএল সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন তিনি।
- অভিষেক শর্মা: বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জ্বলে উঠলেও গ্রুপ পর্যায়ে তাঁর ব্যাটে রানের অভাব ছিল। তবে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর বিধ্বংসী পারফরম্যান্স হায়দরাবাদ কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে।
কেন এগিয়ে ঈশান কিশন?
সানরাইজার্স কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই অধিনায়কত্ব নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা সেরে ফেলেছেন। ঈশানের পক্ষেই পাল্লা ভারী হওয়ার একাধিক কারণ রয়েছে:
- অভিজ্ঞতা: উইকেটকিপার হিসেবে উইকেটের পিছন থেকে খেলা পড়ার সহজাত ক্ষমতা রয়েছে ঈশানের।
- ট্যাকটিক্যাল নমনীয়তা: টপ অর্ডার এবং তিন নম্বর— উভয় পজিশনেই তিনি সাবলীল।
- আগ্রাসন: গত মরসুমে ১১.২৫ কোটি টাকায় কেনা এই ক্রিকেটার ১৪ ম্যাচে ৩৫৪ রান করে ম্যানেজমেন্টের আস্থা অর্জন করেছেন।
কামিন্সের অভাব পূরণ করাই বড় চ্যালেঞ্জ
গত মরসুমে প্যাট কামিন্সের নেতৃত্বে সানরাইজার্স ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তাঁর বোলিং বুদ্ধিমত্তা এবং শান্ত মেজাজ দলের বড় শক্তি ছিল। কামিন্সের অনুপস্থিতি যেমন দলের ভারসাম্য বিগড়ে দিতে পারে, তেমনই ঈশান বা অভিষেকের মতো তরুণদের জন্য এটি নিজেদের প্রমাণের বড় সুযোগ।
হায়দরাবাদ ম্যানেজমেন্ট দ্রুতই নতুন অধিনায়কের নাম ঘোষণা করতে পারে। নেতৃত্বের বাড়তি দায়িত্ব ঈশানের ব্যাটিংয়ে বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে ক্রিকেট মহল।

