ড্রোন প্রযুক্তিতে ভারতের বিপ্লব: আকাশ ও জল— দুই মাধ্যমেই সমান দক্ষ উভচর ঘাতক ‘অবতার’

ড্রোন প্রযুক্তিতে ভারতের বিপ্লব: আকাশ ও জল— দুই মাধ্যমেই সমান দক্ষ উভচর ঘাতক ‘অবতার’

আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের গুরুত্ব এখন অপরিসীম। ইউক্রেন সংঘাত থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ— সর্বত্রই ড্রোনের নিখুঁত হামলা যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছে। এই আবহে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে এক বিশাল মাইলফলক অর্জন করল ভারত। বেঙ্গালুরুর একটি স্টার্টআপ সংস্থা তৈরি করেছে ভারতের প্রথম উভচর বা অ্যামফিবিয়াস ড্রোন ‘অবতার’ (Avtar)। এই ড্রোন যেমন আকাশে উড়তে সক্ষম, তেমনই অবলীলায় ডুব দিতে পারে জলের গভীরেও। জি নিউজ (Zee News) সূত্রে খবর, বিরল এই ‘সিল’ (SEAL) ড্রোন নিয়ে ইতিমধ্যেই গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভারতীয় নৌবাহিনী।


‘অবতার’: জলের তলা থেকে আকাশপথে হানা

বেঙ্গালুরুর স্টার্টআপ সংস্থা ‘অ্যাকোয়া অ্যারিক্স’ (Aqua Aerix) এই অত্যাধুনিক ড্রোনটি তৈরি করেছে। এর বিশেষত্ব হলো এর বহুমুখী সক্ষমতা। এটি জলের নিচে শত্রুপক্ষের সাবমেরিন বা মাইন শনাক্ত করতে পারে, আবার জল থেকে সরাসরি আকাশে উঠে আকাশপথে শত্রুঘাঁটি ধ্বংস করতে পারে।

প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য:

  • উভচর সক্ষমতা: আকাশ ও জল— দুই মাধ্যমেই সমান সাবলীল। জলের গভীর থেকে কাজ সেরে এটি পুনরায় আকাশে উড়ে যেতে পারে।
  • পে-লোড: এই ড্রোনটি সর্বোচ্চ ১০ কেজি পর্যন্ত ওজন (পে-লোড) বহন করতে সক্ষম।
  • পাল্লা ও স্থায়িত্ব: একনাগাড়ে প্রায় ৫ ঘণ্টা কাজ করতে পারে এবং ১৭৫ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ১৪৫ কিমি) এলাকা জুড়ে অপারেশন চালাতে সক্ষম।
  • সেন্সর প্রযুক্তি: এতে রয়েছে মডিউলার পে-লোড সুবিধা, যার মধ্যে আইএসআর (ইন্টেলিজেন্স সার্ভেইল্যান্স ও রিকনিসান্স) সেন্সর, সোনার সিস্টেম এবং অ্যাকোস্টিক সেন্সর যুক্ত করা যাবে।

সফল পরীক্ষণ ও নৌবাহিনীর নজর

ইতিমধ্যেই সুইমিং পুল এবং বিভিন্ন স্বাধীন প্ল্যাটফর্মে ড্রোনটির প্রাথমিক পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে খোলা সমুদ্র এবং আকাশপথে এর চূড়ান্ত ট্রায়াল চলছে। ড্রোনটির বহুমুখী উপযোগিতা দেখে ভারতীয় নৌবাহিনী বিশেষ উৎসাহ দেখিয়েছে। বিশেষ করে চীন ও পাকিস্তান সীমান্তে নজরদারি এবং সমুদ্রপথে অনুপ্রবেশ রুখতে এই ড্রোন গেম-চেঞ্জার হয়ে উঠতে পারে।

প্রস্তুতকারক সংস্থার আশা, আগামী ৬ থেকে ৮ মাসের মধ্যে ‘অবতার’ সম্পূর্ণ সামরিক সক্ষমতা অর্জন করবে এবং ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে।


কেন এই ড্রোন ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ?

১. সীমান্ত নজরদারি: ভারতের বিশাল সমুদ্র উপকূল এবং দুর্গম পাহাড়ি সীমান্তে নজরদারি চালাতে এই উভচর প্রযুক্তি অত্যন্ত সহায়ক হবে। ২. খরচ সাশ্রয়: বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় স্টার্টআপের এই উদ্ভাবন প্রতিরক্ষা খাতে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানকে আরও শক্তিশালী করবে। ৩. নিখুঁত হামলা: জল বা আকাশ— শত্রু যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, ‘অবতার’ তার মডিউলার সেন্সরের সাহায্যে নিখুঁত লক্ষ্যভেদে সক্ষম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.