ঘূর্ণাবর্ত ও অক্ষরেখার জোড়া ফলা: মঙ্গল ও বুধবার রাজ্যজুড়ে কালবৈশাখীর ভ্রুকুটি

ঘূর্ণাবর্ত ও অক্ষরেখার জোড়া ফলা: মঙ্গল ও বুধবার রাজ্যজুড়ে কালবৈশাখীর ভ্রুকুটি

বসন্তের শেষেই রাজ্যে বর্ষার মেজাজ। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, বাংলাদেশ উপকূলের কাছে একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে এবং একটি অক্ষরেখা বিহার থেকে ঝাড়খণ্ড পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এই দুইয়ের প্রভাবেই বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প স্থলভাগে প্রবেশ করছে, যার ফলে আগামী ৪৮ ঘণ্টা দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গের জেলাওয়ারী পূর্বাভাস

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী মঙ্গল ও বুধবার দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বিক্ষিপ্ত ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে। তবে পশ্চিমের জেলাগুলিতে দুর্যোগের মাত্রা কিছুটা বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • সতর্কতা: পুরুলিয়া, নদীয়া, দুই বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ ও বীরভূমে দমকা হাওয়ার সঙ্গে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
  • কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকা: ১১ মার্চ পর্যন্ত কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও বিক্ষিপ্তভাবে ঝড়-বৃষ্টি চলতে পারে।
  • পরিবর্তন: ১২ মার্চ থেকে দক্ষিণবঙ্গে আবহাওয়ার ভোলবদল ঘটবে। আকাশ পরিষ্কার হতে শুরু করবে এবং আবহাওয়া শুষ্ক হবে।

উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি

উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রেও আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরের উপরের পাঁচটি জেলায় (দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি) লাগাতার ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টিপাত জারি থাকায় আগামী ৪-৫ দিন সেখানে তাপমাত্রার বিশেষ কোনো পরিবর্তন হবে না।

তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা

আগামী তিন দিন দক্ষিণবঙ্গে তাপমাত্রার বড় কোনো তারতম্য হবে না। তবে বৃষ্টির রেশ কাটলে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বাড়তে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, তিন দিন পর থেকে তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। মূলত আকাশ পরিষ্কার হওয়ার পরেই রোদের তেজ বাড়বে।

আপাতত ১১ তারিখ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকে বজ্রগর্ভ মেঘ সঞ্চারকালে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.