পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন আরএন রবি। রাজভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। মঙ্গলবারই তাঁর কলকাতায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। প্রথা অনুযায়ী, পরদিন অর্থাৎ বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির উপস্থিতিতে তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা
সরকারি প্রোটোকল বা শিষ্টাচার অনুযায়ী, নতুন রাজ্যপালের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অংশগ্রহণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
- ধর্না কর্মসূচি: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-এ কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে গত শুক্রবার থেকে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
- রাজনৈতিক অবস্থান: রাজ্যপালের শপথের দিনও যদি মুখ্যমন্ত্রী তাঁর এই প্রতিবাদ কর্মসূচি জারি রাখেন, তবে রাজভবনের অনুষ্ঠানে তাঁর অনুপস্থিতি এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।
নেপথ্যে বোসের পদত্যাগ ও মমতার উদ্বেগ
পূর্বতন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের আকস্মিক পদত্যাগ নিয়ে ইতিপূর্বেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বোসের ইস্তফার খবর প্রকাশ্যে আসতেই সমাজমাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছিলেন যে, তিনি এই ঘটনায় “স্তম্ভিত এবং গভীরভাবে উদ্বিগ্ন”।
মুখ্যমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কোনো রাজনৈতিক চাপ বা স্বার্থরক্ষার কারণেই হয়তো প্রাক্তন রাজ্যপালকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। এই উত্তপ্ত আবহের মধ্যেই তামিলনাড়ুর প্রাক্তন রাজ্যপাল আরএন রবির বাংলায় আগমন প্রশাসনিক স্তরে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
বিরোধী শিবির অবশ্য মুখ্যমন্ত্রীর এই ধর্না এবং শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া নিয়ে দোটানাকে ‘রাজনৈতিক কৌশল’ হিসেবেই দেখছে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা মাথায় রেখে ধর্না প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত হন কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।

