খসড়া ভোটার তালিকা থেকে কয়েক লক্ষ মানুষের নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদে এবং সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার দাবিতে শুক্রবার বিষ্ণুপুরের চকবাজারে এক সংহতিমূলক মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হলো। ‘নাগরিক মঞ্চ’-এর আহ্বানে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শামিল হন সমাজের সর্বস্তরের মানুষ।
এসআইআর (SIR) ও ভোটাধিকার হরণের অভিযোগ
আন্দোলনকারীদের মূল অভিযোগ, এসআইআর (SIR)-এর নামে পরিকল্পিতভাবে সংখ্যালঘু, দলিত, আদিবাসী এবং খেটে খাওয়া গরিব মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবাদী নাগরিকদের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নাগরিকদের ‘ডি-ভোটার’ বা গুরুত্বহীন করার চেষ্টা চলছে, যা গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর পরিপন্থী।
কর্মসূচির বিশেষত্ব ও সংহতি
এদিনের মানববন্ধনে শুধুমাত্র যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বা যাদের নাম ‘বিবেচনাধীন’ রয়েছে তারা নন, বরং সংহতি জানাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দেন তালিকাভুক্ত ভোটাররাও। একে অপরের হাত ধরে দীর্ঘ মানববন্ধন তৈরি করে তারা বার্তা দেন যে, ভোটাধিকার রক্ষার লড়াইটি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর নয়, বরং তা সমগ্র নাগরিক সমাজের।
আন্দোলনের পরবর্তী রূপরেখা
কর্মসূচি শেষে নাগরিক মঞ্চের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়:
- একই লক্ষ্য: কোনো একজন বৈধ নাগরিককেও ‘বেনাগরিক’ হতে দেওয়া হবে না।
- সাংবিধানিক অধিকার: কাউকেই বেআইনিভাবে ‘ডি-ভোটার’ করা চলবে না।
- বৃহত্তর সংগ্রাম: দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
মঞ্চের আহ্বায়ক মন্ডলীর সদস্য তিতাস গুপ্ত সংবাদমাধ্যমকে জানান, “আমরা ধর্ম-বর্ণ বা দল-মত নির্বিশেষে সকলের ভোটাধিকার বাঁচানোর লড়াই শুরু করেছি। আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য— আগে ভোটার, পরে ভোট।”
চকবাজারের এই মানববন্ধন ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সঠিক নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও তালিকার এই অসংগতি জনমনে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

