নড্ডার ভাষণ চলাকালীনই মাঠ ছাড়লেন জনতা: কৃষ্ণনগরে অস্বস্তিতে বিজেপি, শুরু রাজনৈতিক তরজা

নড্ডার ভাষণ চলাকালীনই মাঠ ছাড়লেন জনতা: কৃষ্ণনগরে অস্বস্তিতে বিজেপি, শুরু রাজনৈতিক তরজা

নদিয়ার কৃষ্ণনগরে আয়োজিত বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’র উদ্বোধনী সভায় এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। দলের প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডার ভাষণ চলাকালীনই দর্শকদের একাংশ মাঠ ছাড়তে শুরু করায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবির। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধেই তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাক্যযুদ্ধ।

সভার প্রেক্ষাপট ও জনসমাগম

রবিবার নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে বিজেপির নবদ্বীপ সাংগঠনিক বিভাগের ‘পরিবর্তন যাত্রা’র সূচনা করতে উপস্থিত ছিলেন জেপি নড্ডা এবং তৎকালীন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। দুপুর ২টোয় সভা শুরুর কথা থাকলেও, তা প্রায় দুই ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয়। নদিয়া জেলার উল্লেখযোগ্য মতুয়া ও উদ্বাস্তু ভোটব্যাঙ্কের কথা মাথায় রেখে সভায় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

মাঠ খালি হওয়ার নেপথ্যে: দুটি ভিন্ন মত

জেপি নড্ডার ২০ মিনিটের ভাষণের মাঝপথেই জনতা কেন সভাস্থল ত্যাগ করলেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে দুটি ভিন্ন ব্যাখ্যা উঠে আসছে:

  • তৃণমূলের দাবি (নাগরিকত্ব ইস্যুতে হতাশা): স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব ও বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামীর মতে, মতুয়া ও উদ্বাস্তু সম্প্রদায়ের মানুষ সিএএ (CAA) বা নাগরিকত্ব নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট বার্তার আশায় এসেছিলেন। কিন্তু নড্ডা তাঁর ভাষণে এই বিষয়ে নীরব থাকায় ক্ষুব্ধ ও হতাশ জনতা সভা ছেড়ে চলে যান।
  • বিজেপির ব্যাখ্যা (সময় বিভ্রাট): বিজেপির নদিয়া উত্তর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অর্জুন বিশ্বাস এই দাবি নস্যাৎ করেছেন। তাঁর মতে, সভা শুরু হতে অনেক দেরি হওয়ায় দূরদূরান্ত থেকে আসা কর্মী-সমর্থকদের ট্রেন ধরার তাড়া ছিল। তাই তাঁরা শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারেননি।

“বিজেপি কেবল ভোটের আগে ভাঁওতা দেয়। মানুষ বুঝতে পেরেছেন যে নাগরিকত্ব নিয়ে বিজেপির ঝুলি শূন্য, তাই তাঁরা মাঝপথেই সভা ছেড়েছেন।” — ব্রজকিশোর গোস্বামী, তৃণমূল বিধায়ক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.