ভারতের জাতীয় ভূকম্প বিজ্ঞান কেন্দ্রের (NCS) তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৫। তবে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) এই মাত্রা ৫.৩ বলে জানিয়েছে।
ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার আশাশুলি উপজেলা, যা কলকাতা থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ভূ-পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৯.৮ কিলোমিটার গভীরে এই কম্পনের উৎস হওয়ায় এর প্রভাব বেশ জোরালোভাবে অনুভূত হয়েছে। এর আগে দুপুর ১২টা নাগাদ সিকিমেও ২.৪ মাত্রার একটি মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছিল।
ক্ষয়ক্ষতি: উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতা
ভূমিকম্পের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জায়গায় জানমালের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে:
- মিনাখাঁ (উত্তর ২৪ পরগনা): জয় গ্রামে একটি নবনির্মিত বাড়ি ভেঙে পড়েছে।
- বসিরহাট ও হিঙ্গলগঞ্জ: বসিরহাটে একটি জুয়েলারি দোকানের কাচ ভেঙে চুরমার হয়ে যায় এবং হিঙ্গলগঞ্জে একটি পুরনো বাড়িতে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।
- বেহালা (কলকাতা): ১৩২ নম্বর ওয়ার্ডের পর্ণশ্রী এলাকায় একটি নবনির্মিত পিচের রাস্তায় প্রায় ২০ ফুট লম্বা ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলর সঞ্চিতা মিত্র জানান, রাস্তাটি সংস্কারের কাজ গত রাতেই শেষ হয়েছিল। ভূমিকম্পের পরেই ফাটলটি দৃশ্যমান হয়।
জেলাগুলোর পরিস্থিতি
কলকাতা ছাড়াও দক্ষিণবঙ্গের দুই মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, হাওড়া, হুগলি, নদীয়া ও মুর্শিদাবাদে কম্পন অনুভূত হয়েছে। মেদিনীপুর শহরে বহুতল আবাসনগুলো দীর্ঘক্ষণ দুলতে থাকায় বাসিন্দারা খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন। হাওড়া ও হুগলির শিল্পাঞ্চলেও ব্যাপক আতঙ্ক ছড়ায়।
মেটকাফ স্ট্রিট ও হেলে পড়া বহুতলের সত্যতা
মধ্য কলকাতার মেটকাফ স্ট্রিটে একটি বহুতল হেলে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তবে কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ এবং দমকল বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানায়, বহুতলটি প্রায় ২০ বছর ধরেই ওই অবস্থায় রয়েছে। ভূমিকম্পের কারণে নতুন করে হেলে পড়ার খবরটি মূলত একটি গুজব।
এক নজরে ভূমিকম্পের তথ্য
| প্যারামিটার | বিবরণ |
| সময় | শুক্রবার, দুপুর ১:৩০ (আনুমানিক) |
| মাত্রা | ৫.৫ (NCS) / ৫.৩ (USGS) |
| উৎসস্থল | আশাশুলি, সাতক্ষীরা (বাংলাদেশ) |
| গভীরতা | ৯.৮ কিমি |
| প্রভাবিত এলাকা | কলকাতা, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি ও সিকিম। |

