সন্তানের কান্না থামাতেই চরম নৃশংসতা: ১ বছরের শিশুকে হাত-পা বেঁধে খুনের অভিযোগ মায়ের বিরুদ্ধে

সন্তানের কান্না থামাতেই চরম নৃশংসতা: ১ বছরের শিশুকে হাত-পা বেঁধে খুনের অভিযোগ মায়ের বিরুদ্ধে

মাতৃত্বের মমতাকে কালিমা লিপ্ত করে এক বছরের শিশুকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ উঠল জন্মদাত্রী মায়ের বিরুদ্ধে। বারবার কান্নার ‘অপরাধে’ নিজের সন্তানকে অমানবিক নির্যাতনে প্রাণ কেড়ে নেওয়ার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে তেলঙ্গানার মেদচল-মালকাজগিরি জেলায়। পুলিশ অভিযুক্ত মা ভার্গবীকে গ্রেফতার করেছে।

ঘটনার বিবরণ: অভাবনীয় নিষ্ঠুরতা

জওহরনগর থানার রামকৃষ্ণনগরের বাসিন্দা ভার্গবীর স্বামী একজন দিনমজুর। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে শিশুটি অবিরাম কাঁদছিল। অভিযোগ, কান্নার শব্দে বিরক্ত হয়ে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন ভার্গবী। শিশুটির চিৎকার যাতে বাইরে না যায়, সে জন্য প্রথমে তার মুখে কাপড় গুঁজে দেন তিনি। এরপর শিশুটির দুই পা দড়ি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দেওয়া হয়। মুখ চাপা থাকা অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ শ্বাস নিতে না পেরে শিশুটি অচৈতন্য হয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পুলিশের তদন্ত ও গ্রেফতারি

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জওহরনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করে। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য স্থানীয় গান্ধী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ভার্গবী নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে দাবি তদন্তকারীদের। তিনি জানান, অসহ্য বিরক্তি থেকেই তিনি এই চরম পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির প্রাসঙ্গিক ধারায় খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে।

মানসিক অবসাদ না কি পারিবারিক অশান্তি?

প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, ভার্গবীর পারিবারিক জীবনে অশান্তি ছিল। প্রতিবেশীদের দাবি, তিনি প্রায়ই খিটখিটে মেজাজে থাকতেন। তবে কেবল বিরক্তি থেকে একজন মা কীভাবে নিজের সন্তানের হাত-পা বেঁধে মুখে কাপড় গুঁজে দিতে পারেন, তা দেখে শিহরিত হচ্ছেন দুঁদে তদন্তকারীরাও। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, এর পিছনে মহিলার কোনো মানসিক অসুস্থতা বা ‘পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন’ (প্রসব-পরবর্তী অবসাদ) কাজ করছিল কি না।

এক নজরে ঘটনা

  • স্থান: রামকৃষ্ণনগর, মেদচল-মালকাজগিরি জেলা, তেলঙ্গানা।
  • অভিযুক্ত: ভার্গবী (মৃত শিশুর মা)।
  • ঘটনার কারণ: শিশুর অবিরাম কান্নায় বিরক্তি।
  • নৃশংসতার ধরন: পা দড়ি দিয়ে বেঁধে ও মুখে কাপড় গুঁজে শ্বাসরোধ।
  • বর্তমান স্থিতি: অভিযুক্ত পুলিশি হেফাজতে, ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় তদন্তকারীরা।

এই পাশবিক ঘটনাটি সমাজের নৈতিক অবক্ষয় এবং ঘরে শিশুদের সুরক্ষা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পুরো রামকৃষ্ণনগর এলাকা বর্তমানে শোকস্তব্ধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.