ঋণ প্রতারণা মামলা: অনিল অম্বানীর ৩৭১৬ কোটি টাকার বিলাসবহুল আবাসন বাজেয়াপ্ত করল ইডি

ঋণ প্রতারণা মামলা: অনিল অম্বানীর ৩৭১৬ কোটি টাকার বিলাসবহুল আবাসন বাজেয়াপ্ত করল ইডি

আর্থিক অনিয়ম ও ঋণ প্রতারণা মামলায় বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শিল্পপতি অনিল অম্বানীর মালিকানাধীন মুম্বইয়ের পালী হিলসের ১৭ তলার বিলাসবহুল আবাসনটি বাজেয়াপ্ত (অ্যাটাচ) করেছে সংস্থাটি। ইডি সূত্রে খবর, বাজেয়াপ্ত হওয়া এই সম্পত্তির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩,৭১৬ কোটি ৮৩ লক্ষ টাকা।

আদালতের কড়া অবস্থান ও ইডির তৎপরতা

রিলায়্যান্স অনিল ধীরুভাই অম্বানী গোষ্ঠী (ADAG) এবং তার কর্ণধার অনিল অম্বানীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া ঋণের টাকা অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার (মানি লন্ডারিং) অভিযোগ রয়েছে। এই মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে চলায় গত ৪ ফেব্রুয়ারি তীব্র উষ্মা প্রকাশ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সিবিআই এবং ইডি-র কাছে জানতে চেয়েছিল, তদন্ত শেষ হতে কেন এত বিলম্ব হচ্ছে। শীর্ষ আদালতের সেই কড়া বার্তার পরই অনিলের বিরুদ্ধে তদন্তে গতি বাড়াল ইডি।

বাজেয়াপ্ত করার কারণ

তদন্তকারীদের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো, আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন এই সম্পত্তি যাতে অন্য কারও কাছে হস্তান্তরিত বা মালিকানা বদল করা না যায়, তা নিশ্চিত করা। উল্লেখ্য, গত নভেম্বর মাসেও দিল্লি, মুম্বই, পুণে এবং হায়দরাবাদসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অনিল অম্বানী ও তাঁর সংস্থার একাধিক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছিল ইডি।

অনিল অম্বানীর হলফনামা

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে একটি হলফনামা জমা দিয়ে অনিল অম্বানী জানান যে, আদালতের অনুমতি ছাড়া তিনি দেশ ছাড়বেন না। তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৫ সালের জুলাই মাসের পর থেকে তিনি ভারতের বাইরে যাননি এবং তদন্তকারী সংস্থাকে সবরকম সহযোগিতা করতে তিনি প্রস্তুত। ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি অঙ্কের এই ঋণ জালিয়াতির মামলায় অনিল বর্তমানে কেন্দ্রীয় নজরদারিতে রয়েছেন।

মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ

বিষয়বিবরণ
বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির অবস্থানপালী হিলস, মুম্বই (১৭ তলার আবাসন)।
সম্পত্তির আনুমানিক মূল্যপ্রায় ৩,৭১৬.৮৩ কোটি টাকা।
মোট প্রতারণার অভিযোগ৪০,০০০ কোটি টাকারও বেশি।
তদন্তকারী সংস্থাইডি (ED) এবং সিবিআই (CBI)।
আদালতের বিশেষ নির্দেশতদন্তের অগ্রগতি নিয়ে ১০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট তলব।

প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সচিব ইএএস শর্মা এই তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং আদালতের সরাসরি নজরদারিতে তদন্ত চালানোর আবেদন জানিয়েছেন। আপাতত শীর্ষ আদালতের পরবর্তী নির্দেশের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.