ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনী (এসআইআর) প্রক্রিয়ার প্রশাসনিক চাপে থমকে গেল আরজি কর হাসপাতালের আর্থিক দুর্নীতি মামলার আইনি প্রক্রিয়া। বুধবার আলিপুরের সিবিআই ২ নম্বর বিশেষ আদালতে এই মামলার চার্জগঠনের দিন ধার্য থাকলেও, দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত থাকায় শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ২৭ মার্চ।
আদালতে অব্যাহতি চাইলেন আখতার, বিরোধিতা সিবিআইয়ের
বুধবার ১ নম্বর বিশেষ আদালতের বিচারক ভারপ্রাপ্ত হিসেবে মামলার দায়িত্বে ছিলেন। এদিনের শুনানিতে আরজি করের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি মামলা থেকে অব্যাহতির (ডিসচার্জ) আবেদন জানান। তাঁর আইনজীবীদের দাবি, আখতার নির্দোষ। তবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করে। সিবিআইয়ের দাবি, দুর্নীতির শেকড় অনেক গভীরে এবং আখতার এতে সরাসরি যুক্ত। শেষ পর্যন্ত চার্জগঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে আদালত ২৭ মার্চ পরবর্তী শুনানির দিন স্থির করেছে।
দুর্নীতির জালে অভিযোগকারী নিজেই
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল আরজি করের তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে আখতার আলির রাজ্য ভিজিল্যান্স কমিশনকে চিঠি দেওয়ার মাধ্যমে। ২০২৩ সালে আখতারই প্রথম সন্দীপের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। তবে সিবিআই তদন্তভার গ্রহণের পর দাবি করে যে, দুর্নীতির শুরুতে সন্দীপ এবং আখতার একই সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অতিরিক্ত চার্জশিটে আখতার এবং শশীকান্ত চন্দককে অভিযুক্ত হিসেবে দেখায় সিবিআই।
গ্রেফতারি এড়াতে দীর্ঘ টানাপড়েন
তদন্তকারীদের অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বারবার সমন পাঠানো হলেও অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়েছেন আখতার আলি। এমনকি কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানালেও তা খারিজ হয়ে যায়। অবশেষে আলিপুর আদালতের নির্দেশে গত ১০ ফেব্রুয়ারি আত্মসমর্পণ করেন তিনি। বর্তমানে সন্দীপ ঘোষের সঙ্গে তিনিও জেল হেফাজতে রয়েছেন।
এক নজরে মামলার বর্তমান পরিস্থিতি
- পরবর্তী শুনানি: ২৭ মার্চ।
- তদন্তের স্থিতি: মৌখিকভাবে সিবিআই জানিয়েছে মূল তদন্ত শেষ, তবে ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতে আগামীতে অতিরিক্ত তদন্ত হতে পারে।
- কারাগারে বন্দি: সন্দীপ ঘোষ, আখতার আলি, বিপ্লব সিংহ, সুমন হাজরা, আফসার আলি খান এবং আশিস পাণ্ডে।
- চার্জশিট: সন্দীপ ঘোষ সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আগেই চার্জগঠন সম্পন্ন হয়েছে। সম্পূরক চার্জশিটে আখতার আলিদের নাম যুক্ত করা হয়েছে।

