গাজ়ায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যেকোনো আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় ভারত সক্রিয়ভাবে পাশে থাকবে বলে স্পষ্ট জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার ইজ়রায়েলি পার্লামেন্ট ‘নেসেট’-এ ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই বার্তা দেন। একইসঙ্গে সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় ভারতের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে ইজ়রায়েলের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান তিনি।
শান্তির বার্তা ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কড়া অবস্থান
নেসেটের বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেন যে শান্তির পথ সহজ নয়, তবে আলোচনার মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব। তিনি বলেন, “শান্তির পথ কঠিন হতে পারে, কিন্তু ভারত এই অঞ্চলে শান্তি ফেরানোর উদ্যোগে অঙ্গীকারবদ্ধ। আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনার মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদী শান্তি স্থাপন করা সম্ভব।”
সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর অবস্থানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে মোদী বলেন, “ইজ়রায়েলের মতোই ভারতও সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে বিশ্বাসী। কোথাও যদি সন্ত্রাস হয়, তবে তার প্রভাব বিশ্বের সর্বত্র পড়ে।” প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইজ়রায়েলে হামাসের হামলার তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি তিনি ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার (২৬/১১) স্মৃতিও উস্কে দেন। মুম্বইয়ের নারিম্যান হাউসে (ছাবাদ হাউস) পাকিস্তানি জঙ্গিদের হাতে ছয় ইজ়রায়েলি নাগরিকের নিহত হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি দুই দেশের অভিন্ন যন্ত্রণার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
বিরল সম্মাননা: ‘স্পিকার অফ দ্য নেসেট মেডেল’
ভারত ও ইজ়রায়েলের কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ‘স্পিকার অফ দ্য নেসেট মেডেল’ প্রদান করা হয়। নেসেটের স্পিকার আমির ওহানা তাঁর হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন। মোদীই প্রথম ভারতীয় রাষ্ট্রনেতা যিনি এই বিশেষ পদকে ভূষিত হলেন। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে তিনি প্যালেস্টাইনের সর্বোচ্চ সম্মান ‘গ্র্যান্ড কলার অফ দ্য স্টেট অফ প্যালেস্টাইন’ও লাভ করেছিলেন।
কূটনৈতিক তৎপরতা ও বৈঠক
নিজের দ্বিতীয় ইজ়রায়েল সফরে প্রধানমন্ত্রী মোদী বুধবার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, সেই বৈঠকেও গাজ়া পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ইতিমধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘বোর্ড অফ পিস’-এর বৈঠকে পর্যবেক্ষক হিসেবে ভারত যোগ দিয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে ভারতের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক গুরুত্বের ইঙ্গিত দেয়।

