রণক্ষেত্র যাদবপুর: ছাত্র সংঘর্ষে ফাটল ছাত্রের কানের পর্দা, কড়া বিধিনিষেধ জারি কর্তৃপক্ষের

রণক্ষেত্র যাদবপুর: ছাত্র সংঘর্ষে ফাটল ছাত্রের কানের পর্দা, কড়া বিধিনিষেধ জারি কর্তৃপক্ষের

শিক্ষক নিগ্রহের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। সোমবার ক্যাম্পাসের অন্দরে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই (SFI) এবং ‘কালেক্টিভ’-এর সদস্যদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় স্নাতকোত্তর ইংরেজি প্রথম বর্ষের ছাত্র প্রিয়ম চট্টোপাধ্যায়ের কানের পর্দা ফেটে গিয়েছে। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে সোমবার রাতেই ক্যাম্পাসে একগুচ্ছ কড়া বিধিনিষেধ জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।


সংঘর্ষের সূত্রপাত ও আহত ছাত্র

এসএফআই-এর অভিযোগ, গত শুক্রবার শিক্ষক নিগ্রহের সময় প্রিয়ম অধ্যাপকদের উদ্ধার করতে এগিয়ে গিয়েছিলেন। সেই আক্রোশ থেকেই সোমবার ১০-১২ জন ‘কালেক্টিভ’ সমর্থক তাঁকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করে। এসএফআই-এর আঞ্চলিক কমিটির সহ-সম্পাদক কৌশিকী ভট্টাচার্যের দাবি, “শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানোর অপরাধেই প্রিয়মের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে।”

তদন্ত কমিটি ও শিক্ষক মহলের আল্টিমেটাম

২০ ফেব্রুয়ারি শিক্ষক হেনস্থার ঘটনায় সোমবার পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন উপাচার্য। কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন আইএসআই-এর প্রাক্তন ডিরেক্টর বিমল রায়। আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কমিটিকে মুখবন্ধ খামে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে, অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে অধ্যাপক সংগঠন ‘জুটা’ (JUTA)। তাঁদের ঘোষণা:

  • ২৬ ফেব্রুয়ারি: দাবি পূরণ না হলে কর্মবিরতি।
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি: প্রতিবাদ মিছিল।
  • ২ মার্চ: প্রশাসনিক কাজ থেকে সম্পূর্ণ কর্মবিরতি।

ক্যাম্পাসে নতুন বিধিনিষেধ (সন্ধ্যা ৭টা – সকাল ৭টা)

অশান্তি রুখতে এবং বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে সোমবার সন্ধ্যায় একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ:

বিষয়নিয়মাবলী
প্রবেশাধিকারসন্ধ্যা ৭টার পর পরিচয়পত্র (ID Card) দেখানো বাধ্যতামূলক।
পার্কিংগাড়ি বা বাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ স্টিকার থাকতে হবে।
মাদক নিষিদ্ধমদ, গাঁজা বা কোনো প্রকার নেশার দ্রব্য নিয়ে প্রবেশ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
জমায়েতরাত ৮টার পর ক্যাম্পাসে কোনো জমায়েত করা যাবে না।
ক্লাসের সময়সমস্ত ক্লাস রাত ৯টার মধ্যে শেষ করতে হবে।
বহিরাগতরাত ৮টার পর কারণ ছাড়া ক্যাম্পাসে ঘুরলে ‘বহিরাগত’ হিসেবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্ত কমিটির সদস্যবৃন্দ

উপাচার্য ঘোষিত তদন্ত কমিটিতে রয়েছেন:

  1. বিমল রায় (চেয়ারপারসন, প্রাক্তন ডিরেক্টর, ISI)
  2. শ্যামল রায় (প্রাক্তন উপাচার্য, কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়)
  3. শম্পা দাস (প্রাক্তন রেজিস্ট্রার, বোস ইনস্টিটিউট)
  4. অমিতাভ দত্ত (সহ-উপাচার্য, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়)
  5. আবুল হাসনাথ (ডেপুটি রেজিস্ট্রার, আধিকারিক প্রতিনিধি)

বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সিসিটিভি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ পড়ুয়ারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.