এআই সম্মেলনে চিনা রোবটকে নিজেদের বলে দাবি: বিতর্কের মুখে ক্ষমা চাইল গ্যালগটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়

এআই সম্মেলনে চিনা রোবটকে নিজেদের বলে দাবি: বিতর্কের মুখে ক্ষমা চাইল গ্যালগটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়

দিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত আন্তর্জাতিক এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) সম্মেলনে চিনা রোবট-কুকুরকে নিজেদের উদ্ভাবন বলে দাবি করে চরম অস্বস্তিতে পড়ল গ্যালগটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়। বিতর্কের জেরে শেষ পর্যন্ত আয়োজকদের নির্দেশে প্রদর্শনী থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছে তারা। বুধবার এই ঘটনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছে গ্রেটার নয়ডার এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।


মূল ঘটনার প্রেক্ষাপট

ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত পাঁচ দিনের এই মেগা ইভেন্টে গ্যালগটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে একটি রোবট-কুকুর প্রদর্শন করা হয়, যার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ওরিয়ন’। প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক নেহা সিংহ সংবাদমাধ্যমে দাবি করেছিলেন যে, এটি প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি করেছে।

কিন্তু প্রদর্শনী চলাকালীনই নেটিজেনরা লক্ষ্য করেন, রোবটটি হুবহু চিনা কোম্পানি ‘ইউনিট্রি’র তৈরি ‘ইউনিট্রি গো-২’ মডেলের মতো। উল্লেখ্য, এই বাণিজ্যিক রোবটটি অনলাইনে প্রায় ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকায় কিনতে পাওয়া যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফাই ও ক্ষমা প্রার্থনা

চিনা পণ্যকে নিজেদের উদ্ভাবন বলে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর বুধবার একটি বিবৃতি জারি করে গ্যালগটিয়াস বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের দাবি:

  • সংশ্লিষ্ট অধ্যাপক কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন।
  • ক্যামেরার সামনে উত্তেজনার বশে তিনি ভুল তথ্য পরিবেশন করেছেন।
  • প্রতিষ্ঠানটির কোনো অসাধু অভিপ্রায় ছিল না; মূলত সমন্বয়ের অভাবেই এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

অধ্যাপক নেহা সিংহ নিজেও পিটিআই-এর কাছে স্বীকার করেছেন যে, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে এবং তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব ছিল।


আয়োজনের ত্রুটি নিয়ে অস্বস্তিতে কেন্দ্র

এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনকে ঘিরে গত তিন দিনে দু’টি বড়সড় বিপত্তির মুখে পড়তে হলো আয়োজকদের। রোবট বিতর্ক ছাড়াও প্রথম দিন থেকেই পরিকাঠামোগত সমস্যায় নাজেহাল হয়েছেন অতিথিরা।

সমস্যার ক্ষেত্রবিবরণ
ইন্টারনেট সংযোগবিশ্বের বৃহত্তম এআই সম্মেলন হওয়া সত্ত্বেও ভেন্যুতে ওয়াই-ফাই ও ইন্টারনেট পরিষেবা ছিল অত্যন্ত দুর্বল।
লেনদেন সমস্যাডিজিটাল পেমেন্ট এবং বিল মেটানোর ক্ষেত্রেও যান্ত্রিক বিভ্রাটের সম্মুখীন হতে হয় বিদেশি অভ্যাগতদের।
সরকারি প্রতিক্রিয়াপ্রথম দিনের অব্যবস্থার জন্য খোদ কেন্দ্রীয় আইটি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রথম দিনে প্রায় ৭০ হাজার মানুষের সমাগম হওয়ায় পরিষেবায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছিল। তবে পরবর্তী দিনগুলোতে পরিস্থিতির উন্নতি করা হয়েছে। তবুও, এই জোড়া বিতর্কে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ডিজিটাল ভাবমূর্তি কিছুটা হলেও ধাক্কা খেল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.