খুলনায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বঙ্গবন্ধু-হাসিনার ছবিতে মাল্যদান

খুলনায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বঙ্গবন্ধু-হাসিনার ছবিতে মাল্যদান

দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার পর খুলনায় আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে আকস্মিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড লক্ষ্য করা গেছে। রবিবার বিকেলে একদল নেতা-কর্মী তালাবদ্ধ কার্যালয়ে প্রবেশ করে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

ঝটিকা কর্মসূচি ও ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে খুলনার এই কার্যালয়টি দৃশ্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। তবে রবিবার বিকেলে হঠাৎ করেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা সেখানে সমবেত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নেতা-কর্মীরা সেখানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন এবং দলীয় প্রধানের ছবিতে মাল্যদান করেন।

উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের এক প্রাক্তন নেতা সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’কে জানান, কোনো আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা ছাড়াই তৃণমূলের কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন:

“কার্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিল, আমরা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করি এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন করি। আমরা তৃণমূল পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ রয়েছি এবং যেকোনো রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য প্রস্তুত, শুধু কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশের অপেক্ষা।”

রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে জেলা নেতৃত্বের অবস্থান

এই কর্মসূচি প্রসঙ্গে খুলনা সদর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি দাবি করেন, এতদিন দেশে একটি ‘অবৈধ’ ও ‘মবের রাজত্ব’ চলছিল। এখন একটি রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসায় তারা স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফেরার আশা রাখছেন। তিনি মনে করেন, একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে এবং নির্বাচিত সরকার সেই সুযোগ দেবে।

পঞ্চগড়ে বিএনপি নেতার উপস্থিতিতে কার্যালয় খোলার বিতর্ক

খুলনার এই ঘটনার দুদিন আগে গত শুক্রবার পঞ্চগড় সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের একটি স্থানীয় কার্যালয় খোলার ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেখানে পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধানের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

শুরুতে একে ‘ব্যক্তিগত উদ্যোগ’ বলে দাবি করলেও পরে ওই বিএনপি নেতা জানান যে, তিনি ঘরটিকে গুদামঘর হিসেবে জানতেন। সেখানে আওয়ামী লীগের কার্যালয় থাকার বিষয়টি তার জানা ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.