ভক্তি ও সংস্কৃতির মহামিলন: মন্মথপুরে মহাসমারোহে উদযাপিত ১১তম প্রণব রথযাত্রা

ভক্তি ও সংস্কৃতির মহামিলন: মন্মথপুরে মহাসমারোহে উদযাপিত ১১তম প্রণব রথযাত্রা

মঙ্গলবার দুপুর ঠিক ২টোয় স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতায় মন্মথপুর হিন্দু মিলন মন্দির থেকে এই রথযাত্রার সূচনা হয়। ধর্মীয় শাস্ত্র মেনে সুসজ্জিত এই রথের আধ্যাত্মিক ভাবনায় ‘সারথি’ হিসেবে মহাদেব এবং ‘মহারথী’ হিসেবে স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজকে কল্পনা করা হয়েছিল। সম্পূর্ণ ধর্মীয় বিধি মেনে রথটি দীর্ঘ পথ পরিক্রমা করে।

সংস্কৃতির আঙিনায় বর্ণময় শোভাযাত্রা

প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পরিক্রমা পথজুড়ে ছিল লোকসংস্কৃতির নানা বিচিত্র আয়োজন। পথের দুই ধারে ভিড় জমানো সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছে:

  • মহিলা ঢাকীদের বাদন: শোভাযাত্রায় বিশেষ ছন্দ যোগ করেছে মহিলা ঢাকী ও বিভিন্ন ব্যান্ডের সুরেলা পরিবেশনা।
  • আদিবাসী ও ব্রতচারী নৃত্য: শিশুদের ব্রতচারী নাচ এবং আদিবাসী নৃত্য উৎসবের মেজাজকে আরও সমৃদ্ধ করে।
  • জীবন্ত দেব-দেবী: ছোট ছোট শিশুদের বিভিন্ন দেব-দেবীর সাজে সুসজ্জিত ‘জীবন্ত প্রতিমা’ ছিল দর্শকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এছাড়াও হরিনাম সংকীর্তন ও কার্টুন চরিত্র ‘মোটুরাম’-এর উপস্থিতি খুদেদের আনন্দ দেয়।

পরিক্রমা পথ ও সমাপ্তি

রথটি মন্মথপুর হিন্দু মিলন মন্দির থেকে যাত্রা শুরু করে বাঁশতলা বাজার, গঙ্গা আরতি বেদী, গিরিরচক বিশালক্ষ্মী মন্দির, জেলেপাড়া হরিবাসর, মনসাতলা এবং বিজননগর-দুর্গানগর হয়ে পুনরায় মন্মথপুর প্রণব মন্দিরে এসে পৌঁছায়। প্রতিটি স্টপেজে ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ও ভক্তি লক্ষ্য করা গেছে।

পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ প্রার্থনা

চলমান মাধ্যমিক পরীক্ষার কথা মাথায় রেখে এ বছর রথযাত্রায় এক অনন্য সামাজিক উদ্যোগ দেখা যায়। উৎসবের আধ্যাত্মিকতাকে ছুঁয়ে আয়োজক মণ্ডলীর পক্ষ থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য শিব ও শক্তির চরণে বিশেষ প্রার্থনা নিবেদন করা হয়।

ভক্তি, সংস্কৃতি এবং সামাজিক দায়ের এই অপূর্ব মেলবন্ধন মন্মথপুরের ১১তম প্রণব রথযাত্রাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে, যা স্থানীয় মানুষের মনে গভীর আধ্যাত্মিক ছাপ রেখে গিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.