মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় সাম্প্রতিক উত্তেজনার আবহে বড়সড় পদক্ষেপ নিল জেলা পুলিশ। উস্কানিমূলক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের মাধ্যমে জনমানসে বিদ্বেষ ছড়ানো ও শান্তি বিঘ্নিত করার অভিযোগে মৌলানা শওকত আলি আলবানিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে সাইবার ক্রাইম শাখা তাঁকে গ্রেফতার করে।
লোকেশন ট্র্যাক করে গ্রেফতার
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ধৃত শওকত আলি বেলডাঙার জালালপুরের মেদেরধারের বাসিন্দা। তদন্তকারীদের দাবি, গোলমালের সময় তিনি সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও তাঁর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়। গ্রেফতারি এড়াতে তিনি নিজেকে ঝাড়খণ্ডে রয়েছেন বলে দাবি করে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে সাইবার সেল তাঁর মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে জানতে পারে তিনি জেলাতেই আত্মগোপন করে আছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চালিয়ে তাঁকে ধরা হয়।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় (BNS) কঠোর মামলা
ধৃতের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম থানায় ৩৬/২০২৬ নম্বর মামলা রুজু করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে যে সকল ধারায় মামলা করা হয়েছে, তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| ধারা (BNS) | অপরাধের প্রকৃতি |
| ১৯৬(১) | বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা তৈরি বা উস্কানি দেওয়া। |
| ২৯৯ | ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত ও অনুভূতি অবমাননা। |
| ৩০২ | নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতিতে ইচ্ছাকৃত আঘাত। |
| ৩৫৩(১) | গুজব ছড়ানো বা জনশান্তি বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে বিবৃতি। |
| ৩(৫) | অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র। |
অবরুদ্ধ জাতীয় সড়ক ও রেললাইন
মৌলানা শওকত আলির গ্রেফতারির খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে বেলডাঙার মহেশপুরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। বিক্ষোভকারীরা ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক ও রেললাইন অবরোধ করলে বহরমপুর-কৃষ্ণনগর রুটে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। রেল অবরোধের জেরে পলাশী স্টেশনে কলকাতা-লালগোলাগামী হাজারদুয়ারি এক্সপ্রেস দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনের ভূমিকা
এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ। এরই মধ্যে কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী সুজাপুরে নিহত পরিযায়ী শ্রমিকের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান।
পরবর্তী পদক্ষেপ
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত শওকত আলি আলবানিকে আজ (শুক্রবার) আদালতে পেশ করা হবে। এই ঘটনার নেপথ্যে বড় কোনো ষড়যন্ত্র বা অন্য কারও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তাঁকে ৮ দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

