রাজ্যের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় বিন্দুমাত্র গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। শুনানিতে ডাক পাওয়া নাগরিকদের নথি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করতে হবে এবং চূড়ান্ত তালিকায় যাতে একজনও অযোগ্য ভোটারের নাম না থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। বৃহস্পতিবার কলকাতায় বিশেষ পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এমনই কড়া নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন।
চলতি সপ্তাহেই রাজ্যে নতুন করে ১২ জন বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাঁদের কাজের রূপরেখা বুঝিয়ে দিতেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কমিশন সূত্রে খবর, বৈঠকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, কেবল ওপর-ওপর তদারকি বা ‘সুপারফিশিয়াল ভেরিফিকেশন’ চলবে না। ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) যেসব মামলার নিষ্পত্তি ইতিমধ্যে করে দিয়েছেন, প্রয়োজনে সেই সব তথ্য ও নথিও পুনরায় আতশকাচের তলায় আনতে হবে।
‘খেয়ে বলতে হবে কতটা মিষ্টি’ নথি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কমিশন কতটা কঠোর অবস্থান নিচ্ছে, তা বোঝাতে গিয়ে বৈঠকে এক আধিকারিক একটি রূপক ব্যবহার করেন। তিনি পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘মিষ্টি কতটা হয়েছে তা শুধু দেখে বললে হবে না, খেয়ে বিচার করতে হবে।’’ অর্থাৎ, কেবল নথিপত্র দেখলেই হবে না, তার সত্যতা সম্পর্কে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত হতে হবে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এই কাজে বিশেষ পর্যবেক্ষকদের সাহায্য করবেন মাইক্রো অবজার্ভারেরা। কাজের চাপ বাড়লে প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও পর্যবেক্ষক নিয়োগের পথও খোলা রাখা হয়েছে।
এক নজরে পরিসংখ্যান ও শুনানির তথ্য গত ৪ নভেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজ্যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয় গত ১৬ ডিসেম্বর। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী বর্তমান পরিস্থিতি নিম্নরূপ:
- মোট তলব: খসড়া তালিকা থেকে শুনানির জন্য মোট ১ কোটি ২৬ লক্ষ ১৭ হাজার ৫৫৮ জন ভোটারকে ডাকা হয়েছে।
- ‘নো-ম্যাপিং’ ও অসঙ্গতি: এর মধ্যে প্রায় ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৬ জন ভোটার ‘নো-ম্যাপিং’ তালিকাভুক্ত (যাঁরা ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে কোনো যোগসূত্র দেখাতে পারেননি)। এছাড়া তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে ডাক পেয়েছেন ৯৪ লক্ষ ৪৯ হাজার ১৩২ জন।
- কাজের অগ্রগতি: কমিশন সূত্রে খবর, এখন পর্যন্ত ৩০ লক্ষের বেশি ভোটারের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত বুধবার ৫ লক্ষ ৩০ হাজার এবং বৃহস্পতিবার রাজ্যজুড়ে প্রায় ৩ লক্ষ ভোটারের শুনানি হয়েছে।
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে প্রতিটি ধাপ নিশ্ছিদ্র রাখতেই এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।

