কমনওয়েলথ গেমসে ইতিহাস গড়ে সোনাজয়ী জুডোকা অস্মিতা দে-কে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে চলেছে ত্রিপুরা সরকার। রাজধানী আগরতলায় বাড়ি তৈরির জন্য ২৩ বছর বয়সী এই ক্রীড়াবিদের হাতে জমি তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা। বুধবার আগরতলায় আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ভারতীয় জুডোকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা জানানো হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ও সংবর্ধনা
ভারতের প্রথম জুডোকা হিসেবে কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণপদক জয়ের রেকর্ড গড়েছেন অস্মিতা। গ্লাসগো গেমস শেষে দেশে ফিরে দিল্লির ত্রিপুরা ভবনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন তিনি। সেই সময় আগরতলায় একটি বাড়ি তৈরির জন্য জমি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন অস্মিতা।
বুধবারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা বলেন, “দিল্লিতে সাক্ষাতের সময়ই অস্মিতা জমির ব্যাপারে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। আমি তাঁকে দ্রুত ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছিলাম। সেই কথা রাখতেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে জমি দেওয়া হচ্ছে।” একই সঙ্গে আসন্ন এশিয়ান গেমসে অস্মিতার সফল অংশগ্রহণের জন্য শুভকামনা জানান তিনি।
অভাব অনটনের শৈশব পেরিয়ে আন্তর্জাতিক সাফল্য
আগরতলায় জন্ম নেওয়া অস্মিতার শৈশব কেটেছে দক্ষিণ ত্রিপুরার বেলোনিয়ায়। তাঁর বাবা প্রয়াত অর্জুন কুমার দে পেশায় এক সাধারণ সাইকেল সারাই কর্মী ছিলেন। অত্যন্ত সীমিত আয়ে স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হতো তাঁকে। চরম আর্থিক অনটনকে সঙ্গী করেই অস্মিতার ক্রীড়াজীবনের সূচনা হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে অস্মিতার পিতৃবিয়োগ ঘটে।
পরবর্তীকালে কর্মসূত্রে তাঁর পরিবার বারাণসীতে চলে যায়। বর্তমানে অস্মিতা উত্তর প্রদেশ পুলিশের একজন কর্মী হিসেবে কর্মরত হলেও, নিজের জন্মভূমির সঙ্গে তাঁর নিবিড় আত্মিক যোগাযোগ সবসময়ই বজায় রেখেছেন। দেশ ও রাজ্যের নাম উজ্জ্বল করার পর ত্রিপুরা সরকারের এই স্বীকৃতি তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামকে যথাযথ সম্মান জানাল।

