পিছিয়ে পড়েও হাল না ছাড়ার পুরনো মেজাজ ধরে রেখে আরও এক স্মরণীয় জয়ের সাক্ষী থাকল যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। শক্তিশালী আল আরবিকে অতিরিক্ত সময়ের থ্রিলারে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল। দ্বিতীয়ার্ধের অন্তিম লগ্নে সমতা ফেরানোর পর অতিরিক্ত সময় ১২ মিনিটের ঝড়ে কুয়েতের ক্লাবটিকে কার্যত গুঁড়িয়ে দিয়ে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২ (ACL 2)-এর মূল পর্বে জায়গা করে নিল আন্তোনিয়ো লোপেস হাবাসের দল।
প্রথমার্ধে সমানে সমানে লড়াই ম্যাচের আগে একাধিক প্রতিকূলতা ছিল লাল-হলুদ ব্রিগেডের সামনে। হাতে ভিনদেশি বলতে ছিলেন কেবল রশিদ ও দানি রামিরেজ়। কিন্তু ডিফেন্সিভ মানসিকতা দূরে সরিয়ে রেখেই মাঠে নামে ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের ৬ মিনিটেই জয় গুপ্তের ক্রস ধরে এডমুন্ডের বাড়ানো বল থেকে রশিদের জোরালো শট কোনোক্রমে রক্ষা করেন আল আরবির গোলরক্ষক। প্রথমার্ধে ইস্টবেঙ্গলের অন্যতম সেনানি ছিলেন কেরলের তরুণ জেসিন টি কে, যাঁর আক্রমণের তীব্রতায় বারবার ব্যস্ত হতে দেখা যায় প্রতিপক্ষ রক্ষণকে। অন্যদিকে, ১৫ মিনিটের পর থেকে নাইজেরীয় স্ট্রাইকার আনায়ো ইউয়ালার ওপর ভর করে ম্যাচে ফেরে আল আরবি। তবে লাল-হলুদ গোলরক্ষক প্রভসুখন গিলের সতর্কতা এবং দু’দলের সুযোগ নষ্টের কারণে প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবেই শেষ হয়।
পেনাল্টির ধাক্কা এবং জয়ের সেই গোল দ্বিতীয়ার্ধেও ইস্টবেঙ্গল রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন ইউয়ালা। ৫০ মিনিটে বিপিন সিংহ সুযোগ নষ্ট করার পর ৭৫ মিনিটে বিপদে পড়ে ইস্টবেঙ্গল। নিজেদের বক্সে সন্দীপ মান্ডি আল আরবির ফুটবলারকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় প্রতিপক্ষ। সেখান থেকে গোল করে আল আরবিকে এগিয়ে দেন ইউয়ালা (১-০)।
পিছিয়ে পড়ে অল-আউট আক্রমণে নামেন হাবাস। ম্যাচের ৯০ মিনিটে সেট পিস থেকেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায় লাল-হলুদ। রশিদের নিখুঁত ফ্রি কিক থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করে সমতা ফেরান জয় গুপ্ত (১-১)। সমতা ফিরতেই জয়ের আশায় গর্জে ওঠে যুবভারতী।
অতিরিক্ত সময়ে রশিদের চমক ও ১২ মিনিটের তাণ্ডব অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধে (১০২ মিনিটে) আল আরবির এক বিষাক্ত আক্রমণ নিজের লাইন ছেড়ে বেরিয়ে এসে প্রতিহত করেন প্রভসুখন। যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচের ফয়সালা টাইব্রেকারেই গড়াবে, ঠিক তখনই ঘটে অলৌকিক ঘটনা।
১০৮ মিনিটের মাথায় দুর্দান্ত হাফ-ভলিতে গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন রশিদ (২-১)। গত মরসুমে ইস্টবেঙ্গলকে ট্রফি এনে দেওয়া রশিদ ফের বড় মঞ্চে জ্বলে ওঠেন। এরপর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া আল আরবি আক্রমণ বাড়ালে তাদের রক্ষণে বড় ফাঁক তৈরি হয়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ১১৭ মিনিটে চমৎকার কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ব্যবধান ৩-১ করেন ডেভিড। এর ঠিক তিন মিনিট পর (১২০ মিনিট) ডেভিডের বাড়ানো বল থেকেই ম্যাচের চতুর্থ গোলটি করেন রোহিত দানু। ৪-১ ব্যবধানে আল আরবিকে হারিয়ে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর মূল পর্বে নিজেদের টিকিট নিশ্চিত করে ইস্টবেঙ্গল।

