আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতা: রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে রাশ টানছে ভারত

আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য সমঝোতা: রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে রাশ টানছে ভারত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য সমঝোতার প্রেক্ষাপটে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিমাণ কমাতে চলেছে ভারত। যদিও এখনই এই আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। সংবাদসংস্থা পিটিআই-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং তেল শোধনাগারগুলির বিকল্প উৎসের অভাবের কারণে এই প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে সম্পন্ন করার ইঙ্গিত মিলেছে।

সমঝোতার প্রভাব ও বর্তমান পরিস্থিতি

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। তবে ভারতীয় তেল শোধনাগার সূত্রে খবর, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধের কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা এখনও আসেনি। তবে বেসরকারিভাবে আমদানির পরিমাণ কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পুরোনো চুক্তির অধীনে থাকা তেল কেনা অব্যাহত থাকলেও নতুন করে রুশ সংস্থাগুলিকে কোনো বরাত দেওয়া হচ্ছে না। সাধারণত এই অর্ডারগুলি পণ্য সংগ্রহের ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ আগে দেওয়া হয়।

আমদানির পরিসংখ্যান ও নিম্নমুখী প্রবণতা

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালের মে মাসে ভারত প্রতিদিন ২১ লক্ষ ব্যারেল রুশ তেল আমদানি করত। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তা কমে দাঁড়ায় ১২ লক্ষ ব্যারেলে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আমদানির পরিমাণ আরও কমে ১১ লক্ষ ব্যারেল হয়েছে এবং ফেব্রুয়ারিতে তা ১০ লক্ষ ব্যারেলে নামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আমদানির এই ক্রমহ্রাসমান হারের পেছনে গত বছর রুশ তেল সংস্থা রসনেফট এবং লুকোয়েলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বড় ভূমিকা রয়েছে। এর ফলে হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম (HPCL) এবং রিলায়্যান্সের মতো বড় সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই তাদের আমদানির কৌশলে পরিবর্তন এনেছে।

ন্যায়ারা এনার্জি: একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ

গুজরাতভিত্তিক ন্যায়ারা এনার্জির ক্ষেত্রে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। এই সংস্থার ৪৯.১৩ শতাংশ শেয়ার রুশ সংস্থা রসনেফ্টের হাতে থাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্রিটেনের নিষেধাজ্ঞার কবলে রয়েছে তারা। অন্য কোনো দেশ থেকে তেল পেতে সমস্যা হওয়ায় তারা এখনও রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল। ডিসেম্বর মাসে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে ন্যায়ারার এই বিশেষ পরিস্থিতির কথা আলাদাভাবে জানানো হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

বিকল্পের সন্ধান ও সরকারের অবস্থান

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, রুশ তেলের বিকল্প হিসেবে ভেনেজুয়েলার ‘ভারী ও নোনতা’ তেল ভারতের জন্য সাশ্রয়ী হতে পারে। তবে রাশিয়া থেকে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হলে দেশের বাজারে কিছুটা চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে, বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, “১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে ভারত তার জ্বালানি উৎসে বৈচিত্র্য আনার কৌশলগত নীতি মেনে চলবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.