নেপালে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেন বসিরহাটের পোদ্দার দম্পতি, রবিবার ফিরছেন হাওড়ায়

নেপালে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেন বসিরহাটের পোদ্দার দম্পতি, রবিবার ফিরছেন হাওড়ায়

নেপালের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েও বাসচালকের উপস্থিত বুদ্ধিতে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেলেন পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাটের এক প্রৌঢ় দম্পতি। কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় গিয়ে এই বিপদের মুখোমুখি হন তাঁরা। বর্তমানে নেপাল সীমান্ত পেরিয়ে নিরাপদে দেশে ফিরেছেন তাঁরা এবং রবিবার ভোরেই তাঁদের হাওড়ায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বসিরহাটের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাছারিপাড়া এলাকার বাসিন্দা, অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক অনুকূল পোদ্দার এবং তাঁর স্ত্রী রেবা পোদ্দার গত ২১ আগস্ট কলকাতা থেকে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। তিব্বত সীমান্তে অবস্থিত কেরুং অভিবাসনকেন্দ্রের দিকে যাওয়ার পথেই এই বিপর্যয় ঘটে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে অনুকূলবাবু জানান, গত বুধবার সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ যখন তাঁদের বাসটি কেরুং অভিবাসনকেন্দ্র থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বে ছিল, ঠিক তখনই চালক আচমকা গাড়ি থামিয়ে দেন। হড়পা বান নামার আশঙ্কা করে চালক আর এক মুহূর্তও দেরি না করে বাসটি ঘুরিয়ে কাঠমান্ডুর দিকে নিয়ে যান। চালকের এই সময়োচিত সিদ্ধান্তের কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁদের দাঁড়ানোর জায়গাটি বানের তোড়ে ভেসে যায়। তিনি জানান, গিরিখাত বেয়ে মেঘের মতো কিছু একটা ধেয়ে আসতে দেখা গিয়েছিল এবং কানে এসেছিল তীব্র গর্জন। মুহূর্তের মধ্যে স্থানীয় মানুষেরা আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার ও কান্নাকাটি করতে শুরু করেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাসপোর্ট অফিসে মিনিট পনেরোর দেরি হওয়ায় অনুকূলবাবু ও তাঁর স্ত্রী অন্য একটি গাড়ি ধরতে পারেননি, যা তাঁদের এ যাত্রায় মৃত্যুর মুখ থেকে বাঁচিয়ে দেয়। শুক্রবারই রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এই দম্পতির সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয় এবং মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার কথা জানান।

ভ্রমণ সংস্থার সিনিয়র ম্যানেজার অমিত সরকার জানান, সংস্থার পাঁচ জন ইতিমধ্যে বিমানে রাজ্যে ফিরে এসেছেন। এ ছাড়া ম্যানেজার সহ মোট ১২ জন পর্যটক রক্সৌল থেকে মিথিলা এক্সপ্রেসে চড়ে রবিবার ভোর ৪টে নাগাদ হাওড়ায় পৌঁছবেন।

তবে পোদ্দার দম্পতি নিরাপদে ফিরলেও বসিরহাট থেকেই আলাদাভাবে কৈলাসে যাওয়া অপর এক দম্পতি—স্বপন মণ্ডল ও তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে তৈরি হয়েছে উৎকণ্ঠা। অনুকূলবাবু জানান, তাঁরা ভিন্ন ভ্রমণ সংস্থায় গেলেও একই দিনে কাঠমান্ডু থেকে কেরুঙের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। মণ্ডল দম্পতিরা সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ অভিবাসনকেন্দ্রে পৌঁছে ছবিও পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু বিপর্যয়ের পর থেকে তাঁদের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পর্যটকদের দলটি নেপালের বিরাটনগর হয়ে বিহারের রক্সৌলে পৌঁছয়। সেখান থেকেই মিথিলা এক্সপ্রেসে চেপে রবিবার হাওড়ায় এসে পৌঁছাচ্ছেন অনুকূল পোদ্দার ও তাঁর স্ত্রী রেবা দেবী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.