অসুস্থ বাবাকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ মেয়ের বিরুদ্ধে, হাবড়ার ভাইরাল ভিডিওয় শোরগোল

অসুস্থ বাবাকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ মেয়ের বিরুদ্ধে, হাবড়ার ভাইরাল ভিডিওয় শোরগোল

বৃদ্ধ বাবাকে চুল ধরে মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর করার একটি রোমহর্ষক ভিডিয়ো ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায়। জন্মদাতা পিতার ওপর মেয়ের এমন শারীরিক নির্যাতনের দৃশ্য সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। যদিও পরবর্তীতে বাবার অনুরোধে অভিযুক্ত কন্যাকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার বিবরণ ও ভাইরাল ভিডিয়ো

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যায়— হাড়সর্বস্ব এক প্রৌঢ়কে চুল ধরে পিঠে ঘুষি মারা হচ্ছে এবং মাটিতে ফেলে লাগাতার লাথি চালানো হচ্ছে। ব্যথায় গোঙানো ওই প্রৌঢ় সম্পর্কে তাঁর জন্মদাতা পিতা। ‘শাসন করার’ নামে যুবতী কন্যার এমন অমানবিক নির্যাতনের দৃশ্য মোবাইলে ক্যামেরাবন্দি করেন এক প্রতিবেশী।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে হাবড়া পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ডহরথুয়া এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অসুস্থ বাবাকে দেখভালের কথা বলে নিজের শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে গিয়েছিলেন ওই কন্যা। তারপর থেকেই দিনের পর দিন প্রৌঢ়ের ওপর এই অত্যাচার চলত।

সম্পত্তি হস্তান্তরের পর বাড়ে নির্যাতন

প্রতিবেশীদের অভিযোগ, বাবা নিজের সমস্ত সম্পত্তি মেয়ের নামে লিখে দেওয়ার পর থেকেই প্রৌঢ়ের ওপর অত্যাচারের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়। যখন-তখন বিবাহিতা কন্যা বাবাকে মারধর করতেন। মারধরের চোটে কিছুদিন আগেই বৃদ্ধের চোখে মারাত্মক আঘাত লাগে। তাঁর পেট, বুক ও গলায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

প্রতিবেশীদের দাবি, এর আগেও ওই প্রৌঢ়কে মেয়ের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য তাঁরা বহুবার চেষ্টা করেছেন এবং প্রতিবাদও করেছেন, কিন্তু তাতে কোনও ফল হয়নি। কয়েকদিন আগে মারধরের একটি দৃশ্য স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্যামেরাবন্দি করে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করার পরেই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

পুলিশের পদক্ষেপ

ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসার পর সক্রিয় হয় পুলিশ। অভিযুক্ত কন্যার নাম তন্দ্রিমা দে। তাঁকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে প্রবীণ পিতার অনুরোধ এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণ না করার শর্তে একটি মুচলেকায় সই করিয়ে পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে ওই যুবতী তাঁর বাবার সঙ্গে কেমন ব্যবহার করেন, সেদিকেও কড়া নজর রাখা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.