আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসের গ্রেফতারির প্রতিবাদে শুক্রবার কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজীৎ দিপকে। কিন্তু কর্মসূচি শুরুর আগেই দিল্লির করোল বাগে এনসিপি (শরদ পাওয়ার) মুখপাত্র অনীশ গাওয়ান্দের বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় তাঁকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। পাশাপাশি, মান্ডি হাউস থেকে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন (আইসা)-র নেত্রী নেহাকেও আটক করা হয়।
দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, আইনগতভাবে এই কর্মসূচির অনুমতি নেওয়া হয়নি। বাড়ি থেকে তেরঙা হাতে বেরোনোর সময় দিপকে পুলিশের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন, ‘‘আমি একা, আইনও ভাঙিনি, ধরছেন কেন?’’ সিজেপির তরফে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে জানানো হয়, দলের প্রধানকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা প্রথমে অজ্ঞাত ছিল। পরে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, তাঁকে দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির জাফরপুর কালান থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সেখানে তাঁকে ২৪ ঘণ্টা প্রতিরোধমূলক আটক রাখা হতে পারে। প্রসঙ্গত, গত সোমবার যন্তর মন্তরের গেট টপকে ঢোকার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া আশুতোষ ও সৌরভ বর্তমানে তিহাড় জেলে বন্দি রয়েছেন।
অন্যদিকে, সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাস অভিযোগ করেছেন, নেহা বোরাকে ফোন ছাড়া পুলিশের গাড়িতে তোলার পর তাঁকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এদিকে, ফিরোজশাহ রোড থেকে এসএফআই-এর কর্মী-সমর্থকেরা কনট প্লেস পর্যন্ত একটি মিছিল করেন, যাতে সাংসদ জন ব্রিটাসও অংশ নেন। মুম্বইয়ের আজাদ ময়দানেও একই ধরনের ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে পুলিশের অনুমতি থাকলেও প্রায় ৫০ জন সমর্থক উপস্থিত হন।
শুক্রবার এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মধ্য দিল্লি ও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২৫ হাজার পুলিশ ও সিএপিএফ মোতায়েন করা হয়। কনট প্লেস ও সেন্ট্রাল পার্কের সমস্ত দোকানপাট বন্ধ রাখা হয়। আন্দোলনকারীদের উপস্থিতির জেরে ব্যবসায়ীদের একাংশ কনট প্লেসে স্লোগান দেন এবং তাদের ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন। এই সংক্রান্ত একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিল দিল্লির একটি ব্যবসায়ী সংগঠন। তবে শীর্ষ আদালত তাতে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করে জানায়, তারা আশা করছে শুভবুদ্ধির জয় হবে।
সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই পুলিশ ও সিএপিএফ বাহিনী কনট প্লেসের কাছাকাছি জড়ো হওয়া প্রায় দু’হাজার কর্মী-সমর্থককে সরিয়ে দেয়। ফলে পুলিশের সঙ্গে বড় ধরনের কোনো সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি এবং কর্মসূচিটি শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবেই সমাপ্ত হয়।

