পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১৭ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন, খসড়া প্রকাশ ১২ নভেম্বর

পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১৭ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন, খসড়া প্রকাশ ১২ নভেম্বর

পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে শুরু হতে চলেছে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা স্পেশ্যাল সামারি রিভিশন (এসএসআর)। এই প্রক্রিয়ায় নতুন ভোটারের নাম তালিকায় তোলা, বিদ্যমান তথ্যে সংশোধন এবং মৃত বা অন্যত্র স্থানান্তরিত ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার সুযোগ থাকবে। বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বর প্রকাশিত হবে ভোটার তালিকার খসড়া। ওই দিন থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে সংশোধনের কাজ। তার পরে আগামী ৪ জানুয়ারি প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।

ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে একাধিক নিয়মের কথা জানিয়েছে কমিশন। কোনও ভোটকেন্দ্রের মোট ভোটারের দুই শতাংশ বা তার বেশি নাম বাদ দেওয়ার প্রস্তাব এলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর থেকে তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি, নির্বাচনী আধিকারিককে নিজে বিষয়টি যাচাই করতে হবে। কোনও ব্যক্তি পাঁচটি বা তার বেশি ক্ষেত্রে আপত্তি জানালেও সেই বিষয়টি পৃথক ভাবে পরীক্ষা করা হবে।

এসএসআর ও এসআইআরের মধ্যে পার্থক্য

ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা এসএসআর এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর এক প্রক্রিয়া নয়। এসএসআর একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া, যা প্রতি বছরই পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন। সাধারণত জানুয়ারি মাসে সংশোধিত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। তবে এ বছর এসআইআর নিয়ে বিতর্কের আবহে এসএসআরের বিশেষ তাৎপর্য তৈরি হয়েছে।

কমিশন জানিয়েছে, এসএসআরের ক্ষেত্রে আধার কার্ড বাধ্যতামূলক নয়। মৃত বা অন্যত্র স্থানান্তরিত ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন বা আপত্তি জানানো যাবে। তবে কোনও ব্যক্তি পাঁচটি বা তার বেশি ক্ষেত্রে আপত্তি জানালে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী আধিকারিককে তা যাচাই করে দেখতে হবে। এ ছাড়া, একই পরিবারের সব সদস্যকে ভোটার তালিকায় একসঙ্গে রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছে কমিশন।

এসআইআর ঘিরে বিতর্কের আবহেই নতুন বিজ্ঞপ্তি

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকার এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে বিস্তর বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়ায় বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে। তাঁদের আবেদন এখনও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত ট্রাইবুনালে বিচারাধীন। নাম বাদ পড়ায় সংশ্লিষ্ট ভোটারেরা বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচনেও তাঁরা ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাননি।

অন্য দিকে, কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় নির্বাচন আসন্ন। তার আগে ট্রাইবুনালে বাদ পড়া ভোটারদের আবেদনগুলির নিষ্পত্তি না হলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পুরভোটেও ভোট দিতে পারবেন না।

এসআইআর প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ তুলে এবং গোটা প্রক্রিয়ায় দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল্লিতে আন্দোলনও শুরু হয়েছে। পথে নেমেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং বিজেপি-বিরোধী দলগুলি। এই রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের বিজ্ঞপ্তি জারি করল নির্বাচন কমিশন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.