শুক্রবার রাত ৯টা ৫০ মিনিট নাগাদ আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চলে এক শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৯। যদিও ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল আফগানিস্তান, তবে এর তীব্রতা এতটাই ছিল যে ভারতের রাজধানী দিল্লি সহ উত্তর ভারতের একটি বড় অংশ কেঁপে ওঠে।
ভূমিকম্পের উৎস ও গভীরতা
ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী:
- উৎসস্থল: আফগানিস্তানের বাদাখশান প্রদেশ, যা পাকিস্তান ও তাজিকিস্তান সীমান্তের নিকটবর্তী হিন্দুকুশ পার্বত্য অঞ্চলে অবস্থিত।
- গভীরতা: ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার গভীরে ছিল এই কম্পনের উৎস।
ভারতে অনুভূত কম্পন
ভারতের দিল্লি এবং পার্শ্ববর্তী এনসিআর (NCR) এলাকায় কম্পন অনুভূত হতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। দিল্লি ছাড়াও কম্পন অনুভূত হয়েছে নিম্নোক্ত শহরগুলোতে:
- পাঞ্জাব ও হরিয়ানা: চণ্ডীগড়, লুধিয়ানা।
- জম্মু ও কাশ্মীর: শ্রীনগর, পুঞ্চ, উধমপুর।
- উত্তরাখণ্ড: দেহরাদূন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তর ভারতের বহু বাসিন্দা কম্পনের মুহূর্তের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তবে এখনও পর্যন্ত ভারত বা আফগানিস্তানে এই ভূমিকম্পের ফলে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
আফগানিস্তানে ভূমিকম্পের ইতিহাস
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আফগানিস্তান অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। গত কয়েক বছরে দেশটিতে একাধিক ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছে:
- সেপ্টেম্বর ২০২৫: রিখটার স্কেলে ৬.৩ মাত্রার কম্পনে তছনছ হয়ে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা। সেই বিপর্যয়ে ২ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষ আহত হন।
- অক্টোবর ২০২৫: সেই মাসেও শক্তিশালী কম্পনে কেঁপে ওঠে দেশটি।
বারবার এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে আফগানিস্তানের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। শুক্রবার রাতের এই ৫.৯ মাত্রার কম্পন আবারও সেই ভয়াবহ স্মৃতিকে উস্কে দিল। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

