বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং ডিডিপি-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে সরিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই পদক্ষেপকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে সরব হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এবার পাল্টা ব্যাখ্যা দিয়ে কমিশন জানাল, ভোটারদের আস্থা ফেরাতে এবং প্রশাসনের ভারসাম্য রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার নেপথ্যে রয়েছে রাজ্য সরকারের পূর্ববর্তী এক বিশাল বদলির তালিকা।
নবান্নের ‘গণবদলি’ বনাম কমিশনের পদক্ষেপ
কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, গত বছর ২৭ অক্টোবর বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধনী (SSR) প্রক্রিয়ার বিজ্ঞপ্তি জারির আগে থেকেই নবান্ন পরিকল্পিতভাবে বদলি শুরু করেছিল। কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
- গত ২৭ অক্টোবর থেকে ১৫ মার্চ (ভোট ঘোষণার দিন) পর্যন্ত রাজ্য মোট ১,৩৭০ জন অফিসারকে বদলি করেছে।
- এই তালিকায় ছিলেন ৯৭ জন আইএএস (IAS) এবং ১৪৬ জন আইপিএস (IPS) অফিসার।
- এ ছাড়াও ১০৮০ জন ডব্লিউবিসিএস (WBCS) এবং রাজ্য পুলিশের ৪৭ জন শীর্ষকর্তাকে রদবদল করা হয়েছিল।
কমিশনের যুক্তি: ‘অস্থিরতা কাটাতে অল্প বদলি’
নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভোটের ঠিক আগে আগে রাজ্য সরকারের এই বিপুল সংখ্যক অফিসার বদলির ফলে প্রশাসনিক কাঠামোতে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। ভোটারদের মনে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার অবকাশ তৈরি হওয়াতেই কমিশনকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।
কমিশনের বক্তব্য, নবান্ন যেখানে ১৩৭০ জনকে সরিয়েছিল, সেখানে কমিশন পরিস্থিতি সামাল দিতে মাত্র ৩০০ জন অফিসারকে বদলি করেছে। এই তালিকায় বিডিও, থানার ওসি থেকে শুরু করে খোদ সিইও (CEO) দফতরের আধিকারিকরাও রয়েছেন।
তৃণমূলের পাল্টা আক্রমণ ও আইনি লড়াই
কমিশনের এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি-র অঙ্গুলিহেলনেই কমিশন কাজ করছে এবং ভোটের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন এমন অফিসারদেরও বিনা কারণে সরানো হচ্ছে।
এই বদলি প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে তৃণমূলের পক্ষ থেকে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলাও দায়ের করা হয়েছিল। তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, নির্বাচনের সময় কমিশনের এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে বিচারবিভাগ হস্তক্ষেপ করবে না।
বর্তমান পরিস্থিতি
১৫ মার্চ ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের প্রশাসনিক শীর্ষ স্তর থেকে রদবদল শুরু হয়। বর্তমানে ভোট যত এগিয়ে আসছে, স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশনের বদলির তালিকাও তত দীর্ঘ হচ্ছে। নবান্ন বনাম কমিশনের এই ‘বদলি-যুদ্ধ’ রাজ্যের নির্বাচনী আবহে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিল।

