কিছু দিন আগেই ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে আইএফএ শিল্ড জিতেছিল মোহনবাগান। কিন্তু আইএসএলের প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেল সবুজ-মেরুন। গুয়াহাটিতে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের কাছে ০-১ গোলে হারল তারা। ম্যাচের সংযুক্তি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে জিতিন এমএসের করা গোলে জয় নিশ্চিত করে নর্থইস্ট। একাধিক গোলের সুযোগ তৈরি করেও তা কাজে লাগাতে না পারার খেসারত দিতে হল মোহনবাগানকে। চার বছর পর আইএসএলে সবুজ-মেরুনকে হারাল উত্তর-পূর্ব ভারতের এই দল।
ম্যাচে মোহনবাগানের একাধিক শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। শেষ দিকে সুহেল ভট্টের কাছেও গোল করার সুযোগ এসেছিল। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের ফল অন্য রকম হতে পারত। অন্য দিকে, নর্থইস্টের আলাদিন আজারাইয়ের দু’টি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।
ম্যাচের শুরুতে মোহনবাগানের দাপট
ম্যাচ শুরুর আগে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের হয়ে ৫০টি গোল করার কৃতিত্বের জন্য আলাদিন আজারাইয়ের হাতে বিশেষ স্মারক তুলে দেওয়া হয়। ক্লাবের প্রথম ফুটবলার হিসাবে এই নজির গড়েছেন তিনি।
খেলা শুরু হতেই আক্রমণে ঝাঁপায় মোহনবাগান। নর্থইস্টের রক্ষণকে একাধিক বার পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়। অষ্টম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল সবুজ-মেরুন। কর্নার থেকে লালিয়ানজুয়ালা ছাংতের ক্রসে ভলি মারেন লি আরউইন। তাঁর শট পোস্টে লাগে। যদিও তার আগেই অফসাইডের পতাকা উঠে গিয়েছিল।
১০ মিনিটের পর থেকে ধীরে ধীরে আক্রমণে ওঠে নর্থইস্টও। ডান প্রান্ত দিয়ে উঠে এসে শট নিয়েছিলেন আলাদিন। তবে তাঁর প্রচেষ্টা আটকে দেন মোহনবাগানের আলবের্তো রদ্রিগেজ়। কিছু ক্ষণ পর মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে নর্থইস্টের বক্সের কাছে পৌঁছে যান সামির জেলকোভিচ। সতীর্থকে পাস দেওয়ার সুযোগ না পেয়ে নিজেই শট নেন তিনি। কিন্তু সেই শট সহজেই ধরে ফেলেন নর্থইস্টের গোলকিপার গুরমীত।
এর পর মাঝমাঠে দুই দলের লড়াই চলতে থাকে। তবে সেই আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি কোনও পক্ষই। নিজের দলের খেলায় একাধিক বার অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায় নর্থইস্টের কোচ জুয়ান পেদ্রো বেনালিকে।
৩৬ মিনিটে গোলের মুখ খুলেছিল নর্থইস্ট। বিশাল কাইথের মাথার উপর দিয়ে বল তুলে জালে জড়িয়েছিলেন আলাদিন। কিন্তু অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে পর পর দু’টি সুযোগ পায় মোহনবাগান। প্রথমে দূরপাল্লার শট নেন আলবের্তো, কিন্তু তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৪৪ মিনিটে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন আরউইন। পাশে থাকা ছাংতে পাসের অপেক্ষায় থাকলেও তার আগেই বল ক্লিয়ার করে দেন নর্থইস্টের ডিফেন্ডারেরা। এর দু’মিনিট পর প্রতি আক্রমণে উঠে গঞ্জালেজ়কে বল দেয় নর্থইস্ট। কোনও মতে পরিস্থিতি সামাল দেন আলবের্তো।
দ্বিতীয়ার্ধেও সুযোগ নষ্টের খেসারত
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ফের আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে মোহনবাগান। ৫৫ মিনিটের আগেই দু’টি সুযোগ তৈরি করে তারা। দুই প্রতিপক্ষ ফুটবলারের মাঝখান থেকে শট নিয়েছিলেন আরউইন। গুরমীত সেই প্রচেষ্টা আটকে দেন। পরের মুহূর্তেই সাহালের পাস পেয়ে ফের শট নেন আরউইন। এ বার বল বারের উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়।
৬০ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে লিস্টন কোলাসোর পাস পেয়ে ডান পায়ে শট নিয়েছিলেন মিগুয়েল। কিন্তু গুরমীত ফের দলকে বাঁচান। দু’মিনিট পর লিস্টনের ফ্রিকিক নর্থইস্টের ওয়ালে লাগে। ফিরতি বল পেয়ে আবার শট নেন তিনি। সেই প্রচেষ্টাও আটকে দেন গুরমীত।
অন্য দিকে, ৭৪ মিনিটে আলাদিনের আরও একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। তবে তাতে নর্থইস্টের আক্রমণে ভাটা পড়েনি। একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যায় তারা। সাইডলাইন থেকে দলকে উৎসাহ দিতে থাকেন কোচ বেনালি।
সংযুক্তি সময়ে জিতিনের গোলে জয় নর্থইস্টের
ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের পর সংযুক্তি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আসে বহু প্রতীক্ষিত গোল। বক্সের বাইরে থেকে শট নিয়েছিলেন আন্তোনিয়ো মোয়ানে। মোহনবাগানের গোলকিপার বিশাল কাইথ সেই শট বাঁচালেও বল বারে লেগে ফিরে আসে। সামনে থাকা জিতিন এমএস ফিরতি বল ভলিতে জালে জড়িয়ে দেন।
সেই গোলেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। একাধিক সুযোগ তৈরি করেও গোল করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় মোহনবাগানকে। অন্য দিকে, গুরুত্বপূর্ণ জয় দিয়ে আইএসএল অভিযান শুরু করল নর্থইস্ট ইউনাইটেড।

