অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দান করা কোটি কোটি টাকা, সোনা-দানা ও মূল্যবান অলংকার চুরির ঘটনায় প্রতি দিনই সামনে আসছে নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য। বুধবার অযোধ্যা পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের শুরুর দিকে প্রয়াগরাজে আয়োজিত কুম্ভমেলার সময়েই রামমন্দিরের দানবাক্স থেকে সবচেয়ে বেশি চুরির ঘটনা ঘটেছিল। আর ভক্তদের দানের সেই বিপুল অর্থের সিংহভাগটাই গিয়েছে এই কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত লবকুশ মিশ্র এবং অনুকল্প মিশ্রের পকেটে, যাঁরা সম্পর্কে একে অপরের আত্মীয়।
এই মহাসড়যন্ত্রের তদন্তে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন, দোষীদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে। পাশাপাশি ধৃত অভিযুক্তদের পক্ষে যাতে কোনো আইনজীবী আদালতে সওয়াল না করেন, সেই নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
চুরির টাকা দিয়ে কেনা হয়েছে সম্পত্তি, নজরে ব্যাঙ্ক কর্মীরাও
তদন্তে নেমে অযোধ্যা পুলিশ ও সিট (SIT) জানতে পেরেছে, রামমন্দির থেকে চুরি করা টাকা দিয়ে মূল অভিযুক্ত লবকুশ ও অনুকল্প দেদার সম্পত্তি কিনেছেন।
- বেআইনি সম্পত্তি: এখনও পর্যন্ত এই দুই আত্মীয়ের নামে ৬টিরও বেশি স্থাবর সম্পত্তির হদিস পেয়েছে পুলিশ। তাঁদের আর্থিক লেনদেন ও বাকি বেনামি সম্পত্তির খোঁজে আয়কর দফতরের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।
- তদন্তের মুখে এসবিআই কর্মীরা: রামমন্দিরে জমা পড়া অনুদানের নগদ টাকা গোনা এবং তার হিসাব রাখার দায়িত্বে ছিল স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI)। তারা এই কাজের জন্য একটি বেসরকারি সংস্থাকে নিয়োগ করেছিল। মন্দিরের মোট চারটি দানবাক্স থেকে টাকা গোনার কাজে ব্যাঙ্কের ১১ জন এবং মন্দির ট্রাস্টের ৩ জন কর্মী নিয়োজিত ছিলেন। এই জালিয়াতির পেছনে এসবিআই-এর কিছু কর্মচারীর ভূমিকা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ধৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮, প্রশ্নের মুখে ট্রাস্ট
মঙ্গলবার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর এই আন্তর্জাতিক স্তরের চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতেরা হলেন— লবকুশ মিশ্র, অনুকল্প মিশ্র, অবিনাশ শুক্ল, মণীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, সুভাষ শ্রীবাস্তব, রামশঙ্কর মিশ্র এবং রামশঙ্কর যাদব। পুলিশ সূত্রে খবর, এই আট জন মিলেই সম্পূর্ণ চুরির ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেছিলেন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্তদের কয়েকজন কুম্ভমেলার আগেও ছোটখাটো চুরির সাথে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু ২০২৫ সালের কুম্ভমেলার সময় যখন পুণ্য অর্জনের আশায় ভক্তরা মুক্তহস্তে দান করতে শুরু করেন এবং মন্দিরের অনুদানের পরিমাণ আচমকা বৃদ্ধি পায়, তখনই বড়সড় হাত সাফাইয়ের সুযোগ নেয় এই চক্রটি।
রামমন্দির ট্রাস্টের আর্থিক খতিয়ান
এই চুরি-কাণ্ডকে কেন্দ্র করে উত্তরপ্রদেশের ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার এবং ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্টে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী:
| সময়কাল / বিষয় | প্রাপ্ত অনুদান ও বিনিয়োগ |
| ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি | ৮২ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা দান পেয়েছে ট্রাস্ট। |
| ২০২৪ সালের জানুয়ারি (উদ্বোধন) থেকে বর্তমান | প্রাপ্ত মোট দানের মধ্য থেকে প্রায় ২,১০০ কোটি টাকা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেছে ট্রাস্ট। |
পুণ্যার্থীদের ভক্তি ও বিশ্বাসের দান কীভাবে কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও এভাবে লোপাট হলো, তা জানতে ধৃত ৮ জনকে হেফাজতে নিয়ে আরও নিখুঁতভাবে তদন্ত চালাচ্ছে সিট।

