ফোন নম্বর ছাড়াই শুধু নাম (ইউজ়ারনেম) ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা আদান-প্রদানের নতুন ফিচার নিয়ে কড়া অবস্থান নিল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার আড়ালে এই ফিচারের অপব্যবহার করে যাতে ভুয়ো পরিচয় বা প্রতারণামূলক অপরাধ না ছড়ানো যায়, তা নিশ্চিত করতেই সক্রিয় হয়েছে কেন্দ্র। সরকারের সঙ্গে আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভারতে এই ফিচার চালু করা যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সংবাদসংস্থা এএনআই (ANI) এবং পিটিআই (PTI)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই মেটা (Meta)-কে একটি আনুষ্ঠানিক নোটিস পাঠানো হয়েছে। আগামী ৩ দিনের মধ্যে এই ‘ইউজ়ারনেম’ ব্যবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মার্ক জুকারবার্গের সংস্থাকে।
কেন কেন্দ্রের এই কঠোর পদক্ষেপ?
কেন্দ্রীয় বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর, এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা কোনো বৈধ সংস্থা, নামী প্রতিষ্ঠান বা কোনো ব্যক্তির নামের সঙ্গে হুবহু মিল রেখে ‘ইউজ়ারনেম’ তৈরি করার সুযোগ পেতে পারে।
- প্রতারণার আশঙ্কা: এই ‘ছদ্মবেশ’ বা ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা বা অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।
- জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ভয়: ভুয়ো অ্যাকাউন্টের কারণে জননিরাপত্তা ও সামাজিক শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
পিটিআই জানিয়েছে, কেন্দ্র ইতিমধ্যেই প্রস্তাবিত ‘ইউজ়ারনেম’ ফিচারটির আইনি কাঠামো ও আইনের বিভিন্ন ধারা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। নতুন এই ফিচারটি দেশে কোনো বড়সড় আইনি বা নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংকট ডেকে আনবে না— এই বিষয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হওয়ার পরেই ভারতে এর ছাড়পত্র দেওয়া হবে।
মেটা-র পরিকল্পনা কী ছিল?
সম্প্রতি মেটার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা আরও মজবুত করতে তারা এই ‘ইউজ়ারনেম ফিচার’ আনতে চলেছে। যেখানে ফোন নম্বর শেয়ার না করেই একে অপরের সাথে যোগাযোগ করা যাবে। চলতি বছরের শেষ দিকেই এই প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করার পরিকল্পনা ছিল মেটার।
তবে সাইবার বিশেষজ্ঞরা এই পদক্ষেপের পর সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ‘নটডেটিং’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা তথা সিইও জসপ্রীত সিংহ সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন:
“ব্যক্তিগত গোপনীয়তা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই দায়বদ্ধতাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।”
ভারতের বাজার ও মেটার চ্যালেঞ্জ
গ্রাহক সংখ্যার নিরিখে ভারতের বাজার মেটার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ভারতে হোয়াটসঅ্যাপের ৫০ কোটিরও বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারী রয়েছেন। এই বিশাল বাজারকে সুরক্ষিত রাখতে এবং ভুয়ো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অপরাধ রুখতে ভারতের এই কঠোর অবস্থান মেটার নতুন ফিচার চালুর প্রক্রিয়াকে আপাতত বেশ খানিকটা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিল।

