কোচবিহারের সভা থেকে তৃণমূলকে কড়া তোপ প্রধানমন্ত্রীর; কেন্দ্রীয় কমিশনের ওপর পূর্ণ আস্থার বার্তা

কোচবিহারের সভা থেকে তৃণমূলকে কড়া তোপ প্রধানমন্ত্রীর; কেন্দ্রীয় কমিশনের ওপর পূর্ণ আস্থার বার্তা

আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কোচবিহারের রাসমেলা ময়দান থেকে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার এই জনসভা থেকে তিনি দাবি করেন, এ বার পশ্চিমবঙ্গে ‘নিরপেক্ষ’ ও ‘ভয়মুক্ত’ নির্বাচন সম্পন্ন হবে। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার ওপর নিজের ‘পূর্ণ আস্থা’ ব্যক্ত করে তিনি রাজ্যে পরিবর্তনের ডাক দেন।


কমিশন বিতর্ক ও রাজনৈতিক চাপানউতর

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার প্রশ্ন তুলছেন এবং ‘ভোটচুরি’র অভিযোগ আনছেন, ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রীর কমিশনের প্রতি এই আস্থার বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। উল্লেখ্য, এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং একাধিক অনিয়মের অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর রবিবারের বক্তব্যের পর এই ইস্যুতে দুই শিবিরের বাগযুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

‘জঙ্গলরাজ’ ও বিচারব্যবস্থা নিয়ে আক্রমণ

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। মালদহের কালিয়াচকের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন:

“তৃণমূলের শাসনে বিচারকেরাও নিরাপদ নন। যেখানে সরকার বিচারকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ, সেখানে সাধারণ মানুষের অবস্থা সহজেই অনুমেয়। কালিয়াচকের ঘটনা নির্মম মহাজঙ্গলরাজের প্রতীক।”

প্রধানমন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, ব্রিগেডের জনসভার পর থেকেই তৃণমূলের ‘সিন্ডিকেট’ আতঙ্কিত এবং নির্বাচনের পর দুর্নীতির প্রতিটি হিসাব কড়ায়-গন্ডায় নেওয়া হবে।


অনুপ্রবেশ ও জনবিন্যাস পরিবর্তনের অভিযোগ

রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন মোদী। তাঁর দাবি:

  • তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের নিজস্ব ‘ভোটব্যাঙ্ক’ হিসেবে ব্যবহার করছে।
  • অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করতেই সরকার এসআইআর-এর বিরোধিতা করছে।
  • বিজেপি ক্ষমতায় এলে সীমান্ত সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা হবে।

পাল্টা জবাবে তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে বলেন, সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে না পারা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকেরই ব্যর্থতা।


নজরে মহিলা ভোট ও দুর্নীতির খতিয়ান

রাজ্যের মহিলা ভোটারদের মন পেতে মোদী স্মরণ করিয়ে দেন কেন্দ্রের লখপতি দিদি যোজনা এবং লোকসভা ও বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণের আইনের কথা। তিনি দাবি করেন, বিজেপিই মহিলাদের প্রথম পছন্দ। পাশাপাশি, নিয়োগ দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তৃণমূলের মন্ত্রী-বিধায়করা যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা করেছেন।

বাংলা ভাষা ও ‘ইস্তাহার’ বিতর্ক

বক্তৃতার শুরুতে বাংলা ভাষায় সম্ভাষণ জানানোর পাশাপাশি তৃণমূলের নির্বাচনী ঘোষণাপত্রের নামকরণ নিয়ে কটাক্ষ করেন মোদী। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূল ‘বাংলা’ নাম না রেখে ‘ইস্তাহার’ শব্দটি ব্যবহার করে বাংলার পরিচয় বদলে দিচ্ছে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে পাল্টায় জানানো হয়েছে যে, বিজেপি এবং স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও অতীতে একাধিকবার ‘ইস্তাহার’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন, তাই এই সমালোচনা অর্থহীন।

সব মিলিয়ে, কোচবিহারের মাটি থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্ট করে দিলেন যে, আসন্ন নির্বাচনে দুর্নীতি এবং জননিরাপত্তাই হতে চলেছে বিজেপির প্রধান হাতিয়ার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.