তোলাবাজির মামলায় অভিযুক্ত কলকাতা পুরসভার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষকে ধরতে ভিন্রাজ্যে নাটকীয় অভিযান চালাল পুলিশ। সূত্র মারফত খবর পেয়ে ওড়িশায় সুশান্তবাবুর গাড়ি ধাওয়া করেন তদন্তকারীরা। তবে পুলিশকে আসতে দেখে মাঝরাস্তায় গাড়ি থেকে নেমে তিনি গা-ঢাকা দেন বলে অভিযোগ। কাউন্সিলরের খোঁজ না মিললেও, ওড়িশায় তাঁর গাড়িটি থেকে চালক সুজিত চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
হকারদের থেকে ৩ কোটি টাকা তোলার অভিযোগ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কসবার ১০৮ নম্বর ওয়ার্ডে হকারদের পুনর্বাসন ও দোকান পাইয়ে দেওয়ার নাম করে বিপুল অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠে সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে। হকার্স কমিটির কয়েক জন সদস্য আনন্দপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে জানান, হকারদের কাছ থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই বেপাত্তা ছিলেন সুশান্তবাবু।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেফতারি এড়াতে ভিন্রাজ্যে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ওই কাউন্সিলর। সেই সূত্র ধরেই ওড়িশায় ফাঁদ পাতে পুলিশ। তবে ওড়িশার একটি নির্দিষ্ট এলাকায় পুলিশ তাঁর গাড়ি ধাওয়া করলে, তিনি রাস্তায় গাড়ি রেখেই চম্পট দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ির ভিতর থেকে শুধুমাত্র তাঁর চালককে আটক এবং পরে গ্রেফতার করে। পলাতক কাউন্সিলরের সন্ধানে তল্লাশি জারি রয়েছে।
পুরসভার পদ থেকে ইস্তফা
সম্প্রতি গত মাসের শেষের দিকে কলকাতা পুরসভার ১২ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেন সুশান্ত ঘোষ। পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। তবে বরো চেয়ারম্যানের পদ ছাড়লেও, কাউন্সিলর পদ থেকে তিনি ইস্তফা দিচ্ছেন না বলেই স্পষ্ট জানিয়েছিলেন সুশান্তবাবু।
পুরোনো গুলিকাণ্ড ও তদন্তের অসন্তোষ উল্লেখ্য, গত বছর ১৫ নভেম্বর নিজের বাড়ির সামনেই এক আততায়ীর হামলার মুখে পড়েছিলেন সুশান্ত ঘোষ। সে বার স্কুটারে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা করা হলেও, বন্দুকের লক আটকে যাওয়ায় অলৌকিক ভাবে প্রাণে বেঁচে যান তিনি। পরে সুশান্তবাবু ও তাঁর অনুগামীরাই যুবরাজ সিংহ নামের ওই শুটারকে ধরে ফেলেন। পরবর্তীতে এই ঘটনায় আফরোজ় খান ওরফে গুলজ়ার, আহমেদ আলি, ফুলবাবুসহ একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।
বরো চেয়ারম্যানের পদ ছাড়ার পর সেই পুরোনো গুলিকাণ্ডের তদন্ত নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন সুশান্ত ঘোষ। তদন্ত সঠিক পথে চলেনি দাবি করে, ঘটনার প্রকৃত তদন্তের জন্য রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে অনুরোধও জানিয়েছিলেন তিনি। তবে সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কোটি টাকার তোলাবাজি মামলায় নাম জড়াল খোদ এই কাউন্সিলরের।

