নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস এবং কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে গত জুলাই মাসে দেশজুড়ে চলা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পড়ুয়া ও আন্দোলনকারীদের স্বস্তি দিল শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট দিল্লি, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, মহারাষ্ট্র ও অসমে ২০ থেকে ২৫ জুলাইয়ের আন্দোলন-সংক্রান্ত সমস্ত এফআইআর বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, অন্য রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই সংক্রান্ত সমজাতীয় এফআইআর স্থগিত বা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়ে সংবিধানের ১৪২ ধারা প্রয়োগ করেছে আদালত।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ জানিয়েছে, সামগ্রিক পরিস্থিতিতে এই নির্দেশ দেওয়া হলেও, যে ২,৮৭৩ জন আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে অতীতে অপরাধমূলক মামলা ছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইআর দায়ের করবে দিল্লি পুলিশ। অন্যদিকে, সরকারের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) তাদের ৫ সেপ্টেম্বরের পূর্বঘোষিত প্রতিবাদ কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে।
কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশের পদক্ষেপ নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে প্রায় এক মাস ধরে চলা আন্দোলনের জেরে গত ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। এর পর কেন্দ্র ও সিজেপির মধ্যে সমঝোতা বৈঠক হলেও প্রতিশ্রুতি রক্ষা না হওয়ার অভিযোগ তুলে ৫ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ফের প্রতিবাদের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। সেই কর্মসূচি ঠেকাতে এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজের আর্জি জানিয়ে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশ।
আদালতে কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, ২৫ জুলাইয়ের চুক্তিমাফিক পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, অসম ও মহারাষ্ট্র সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে এফআইআর বাতিলের আবেদন করেছে। আদালত সেই আর্জি মেনে নির্দেশিকা জারি করেছে। এছাড়া নিট কেলেঙ্কারির জেরে যে সমস্ত পড়ুয়ারা আত্মঘাতী হয়েছেন, তাঁদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে কেন্দ্র তিন মাস সময় চেয়েছে এবং আদালত তা মঞ্জুর করেছে। একই সঙ্গে আন্দোলনের সময় পুলিশের পদক্ষেপে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থাও কেন্দ্রকে করতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিজেপির কর্মসূচি প্রত্যাহার কেন্দ্রীয় সরকারের ইতিবাচক আশ্বাসের কথা জানিয়ে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস সুপ্রিম কোর্টকে জানান যে, তাঁরা ৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ মন্তব্য করে যে, উভয় পক্ষই দায়িত্বশীল আচরণ করলে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। এই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিট আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চলা দীর্ঘ আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আপাতত অবসান ঘটল।

