পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এক চরম উত্তেজনার পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, তারা আমেরিকার একটি বিশাল সামরিক পরিবহন বিমান ‘সি-১৩০ হারকিউলিস’ এবং দুটি ‘ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টার গুলি করে নামিয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, শত্রুপক্ষের এলাকায় এক রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালিয়ে তাঁরা তাঁদের নিখোঁজ পাইলটকে সুরক্ষিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।
ইরানের দাবি: যৌথ অভিযানে মার্কিন বিমান ধ্বংস
ইরানের আধা-সামরিক সংবাদসংস্থা ‘তাসনিম নিউজ’ জানিয়েছে, দেশটির রেভলিউশনারি গার্ড, স্থলসেনা, বায়ুসেনা ও বাসিজ বাহিনীর যৌথ অভিযানে এই সাফল্য মিলেছে। মূলত ইসফাহান শহরের দক্ষিণ দিকে মার্কিন সি-১৩০ বিমানটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
ইরানি সেনার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
- আমেরিকার একাধিক ‘ফ্লাইং অবজেক্ট’ বা উড়ন্ত বস্তু ধ্বংস করা হয়েছে।
- সি-১৩০ বিমানের পাশাপাশি দুটি ‘ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টারকেও নামানো হয়েছে।
- দাবি করা হয়েছে, ইরানে আটকে পড়া এক বায়ুসেনা কর্মীকে উদ্ধার করতে মার্কিন বিমানটি তাদের আকাশসীমায় ঢুকেছিল।
উল্লেখ্য, সি-১৩০ হারকিউলিস মূলত দুর্গম এলাকায় সেনার রসদ পৌঁছে দেওয়ার জন্য অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য একটি বিমান।
পাইলট উদ্ধারে রুদ্ধশ্বাস অভিযান আমেরিকার
ইরানের এই দাবির মাঝেই ভিন্ন বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি ঘোষণা করেন যে, নিখোঁজ মার্কিন পাইলটকে ইরানি ভূখণ্ড থেকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার, যখন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আমেরিকার একটি এফ-১৫ ই যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভেঙে পড়ে। সেই সময় এক পাইলটকে উদ্ধার করা গেলেও অন্যজন নিখোঁজ ছিলেন। গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে তাঁকে খুঁজে বের করতে মরিয়া ছিল মার্কিন প্রশাসন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বয়ানে:
“আমরা আমাদের পাইলটকে খুঁজে পেয়েছি। শত্রুপক্ষের মাটিতে গত কয়েক ঘণ্টা ধরে এক রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালানো হয়েছে। অবশেষে তাঁকে সুরক্ষিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আমি অত্যন্ত খুশি যে তিনি এখন নিরাপদ।”

