মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট নোটিস খারিজ: সংসদে ধাক্কা খেল বিরোধী শিবির

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট নোটিস খারিজ: সংসদে ধাক্কা খেল বিরোধী শিবির

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে অপসারণের লক্ষ্যে বিরোধী দলগুলির আনা ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসন প্রস্তাবের নোটিস খারিজ হয়ে গেল সংসদে। সোমবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি.পি. রাধাকৃষ্ণণ বিরোধীদের এই আবেদন গ্রহণ না করার কথা জানিয়ে দিয়েছেন। এর ফলে মোদী বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় বড়সড় ধাক্কা লাগল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

প্রেক্ষাপট ও দলীয় তোড়জোড়

গত ১২ মার্চ সংসদের দুই কক্ষে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের জন্য এই নোটিস জমা দেওয়া হয়েছিল। গত ৩ ফেব্রুয়ারি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি শুরু করার নির্দেশ দেন। তৃণমূলের আবেদনের ভিত্তিতে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে-সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলিও এই প্রস্তাবে সায় দিয়েছিল।

সাংসদদের সমর্থন ও আইনি বাধ্যবাধকতা

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার একটি উচ্চ সাংবিধানিক পদ। নিয়ম অনুযায়ী, এই পদের আধিকারিককে অপসারণের প্রস্তাব আনতে গেলে অন্তত ১০০ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন। তৃণমূলের বর্তমান সাংসদ সংখ্যা ৪১ হওয়ায় তারা সমমনোভাবাপন্ন দলগুলির সমর্থন চায়। চূড়ান্ত নোটিসটিতে মোট ১৯৩ জন বিরোধী সাংসদ (লোকসভার ১৩০ জন এবং রাজ্যসভার ৬০ জন) স্বাক্ষর করেছিলেন। দীর্ঘ তিন সপ্তাহ ধরে বিষয়টি বিবেচনাধীন থাকার পর অবশেষে সোমবার দুই কক্ষের প্রধানই তা খারিজ করে দেন।

বিরোধীদের আনা অভিযোগসমূহ

জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পেশ করা নোটিসে বিরোধী সাংসদরা একাধিক গুরুতর অভিযোগ এনেছিলেন:

  • নিয়োগে অনিয়ম: তাঁর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ও পদ্ধতিগত ত্রুটির অভিযোগ তোলা হয়েছিল।
  • পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ: তাঁর বিরুদ্ধে সার্বিক পক্ষপাত এবং ভোটে কারচুপিতে মদত দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।
  • রাহুল গান্ধীকে নিয়ে মন্তব্য: লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
  • ভোটার তালিকায় অসঙ্গতি: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ত্রুটি নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল।
  • রাহুল গান্ধীর ‘ডিসেন্ট নোট’: গত বছর নিয়োগ প্যানেলের বৈঠকে জ্ঞানেশের নাম নিয়ে রাহুল গান্ধী যে ভিন্নমত পোষণ করেছিলেন (ডিসেন্ট নোট), সেটির উল্লেখও ছিল এই নোটিসে।

স্পিকার ও চেয়ারম্যানের এই সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত স্থগিত হয়ে গেল জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে তৈরি হওয়া আইনি ও সংসদীয় লড়াই। বিরোধী দলগুলির পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.