চেন্নাইয়ের এমএ চিদম্বরম স্টেডিয়ামের নিষ্প্রাণ পিচে ব্যাটারদের স্বর্গরাজ্যকেও বোলারদের অনুকূলে এনে দিলেন বাংলার দুই পেসার মহম্মদ শামি ও মুকেশ কুমার। মহম্মদ সিরাজের মতো বোলার যেখানে ওভারপ্রতি প্রায় ৭ রান খরচ করেছেন, ঠিক সেখানেই বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখালেন শামি-মুকেশ। তাঁদের বোলিং তোপে তৃতীয় দিনের শেষে দক্ষিণাঞ্চল তাদের প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ২৪২ রান তুলেছে। ফলে তারা এখনও পূর্বাঞ্চলের থেকে ৪৬৬ রানে পিছিয়ে রয়েছে।
পিচের চরিত্র ও লড়াইয়ের ছবি চেন্নাইয়ের এই উইকেটে প্রথম তিন দিনের খেলা দেখে বোলারদের জন্য বাড়তি কোনো সুবিধা—যেমন বাউন্স, গতি বা ঘূর্ণির দেখা মেলেনি। স্পিনারদের কয়েকটি বল ঘুরলেও ব্যাটারদের তা সামলাতে খুব একটা সমস্যা হয়নি। চোখ বন্ধ করে শট খেলে রান তুলেছেন ব্যাটারেরা। পূর্বাঞ্চলের শক্তিশালী ব্যাটিংয়ের পর দক্ষিণাঞ্চলও বড় রানের ভিত গড়বে বলে মনে করা হয়েছিল, কিন্তু বাংলার দুই পেসারের দুর্দান্ত রিভার্স সুইং সেই আশায় জল ঢেলে দেয়।
উইকেটের পতন ও বোলারদের জাদু ইনিংসের শুরুতেই ধাক্কা খায় দক্ষিণাঞ্চল। মুকেশ কুমারের লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে সামান্য ছুঁয়ে ১ রান করে আউট হন রিকি ভুঁই। আম্পায়ার আউট না দিলেও, ১৫ বছর বয়সি উদীয়মান ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশীর জোরাজুরিতে অধিনায়ক ঈশান কিশন রিভিউ নেন এবং সফল হন। এরপর মধ্যাহ্নভোজের বিরতির ঠিক আগে শিখর মোহনের বলে ৩২ রান করে ধৈর্য হারিয়ে সাজঘরে ফেরেন নারায়ণ জগদীশন।
বল ৩৫ ওভার পুরোনো হতেই ভেল্কি দেখাতে শুরু করেন শামি ও মুকেশ। শুরু হয় রিভার্স সুইং, যা ব্যাটারদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করে। শামির বলে ২৭ রান করে সাইক রশিদ রিভার্স সুইংয়ের শিকার হন। অর্ধশতরান করে খেলা দেবদত্ত পডিক্কলও ইনিংস বড় করতে পারেননি। মুকেশের একটি নিরীহ বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ৬২ রানের মাথায় ডিপে ক্যাচ দিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
গত রঞ্জি মরসুমের সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক স্মরণ রবিচন্দ্রনকে সামলানোর দায়িত্ব ছিল অধিনায়ক তিলক বর্মার কাঁধে। কিন্তু শামির দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে টিকতে পারেননি স্মরণ। বার দফায় ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে শামির বলেই ব্যাটের কানায় বল লাগিয়ে ক্যাচ দেন তিনি। আম্পায়ার আউট না দিলেও, ফিল্ডে থাকা বৈভবের সাহসিকতায় নেওয়া রিভিউ সঠিক প্রমাণিত হয়। স্মরণ ফেরার পর ১৫ বছরের বৈভবের নেতৃত্ব এবং জুনিয়র ক্রিকেটারের বুদ্ধিমত্তায় শামিদের উল্লাস ছিল দেখার মতো।
দিনের শেষ ওভারে মহম্মদ কুরেশির বলে ২৬ রান করে শ্রেয়স গোপাল আউট হন। এর আগে মুকেশের বলে শ্রেয়সের ক্যাচ ফেলেছিলেন বৈভব। দিন শেষে তিলক বর্মা ৫৬ রানে অপরাজিত থেকে একাই লড়াই চালিয়ে গেলেও, সামগ্রিক পরিস্থিতিতে ম্যাচ থেকে অনেকটাই দূরে সরে গেছে দক্ষিণাঞ্চল।
পেসারদের পরিসংখ্যান তৃতীয় দিনে দুর্দান্ত বোলিং করে পূর্বাঞ্চলকে চালকের আসনে বসিয়েছেন বাংলার পেসাররা।
- মহম্মদ শামি: ১১ ওভারে ৪টি মেডেনসহ মাত্র ১৭ রান খরচ করে ২ উইকেট শিকার করেছেন।
- মুকেশ কুমার: ১২ ওভারে ৩৬ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট।
দক্ষিণাঞ্চলের পেসাররা যেখানে চরম হতাশ করেছেন, সেখানে শামি ও মুকেশের অভাবনীয় পারফরম্যান্সই দুই দলের মধ্যে বড় ব্যবধান গড়ে দিয়েছে এবং পূর্বাঞ্চলকে জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে।

