যাদবপুরকে ‘জঞ্জালমুক্ত’ করার কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, নিশানা বাম ও তৃণমূল আমলকে

যাদবপুরকে ‘জঞ্জালমুক্ত’ করার কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর, নিশানা বাম ও তৃণমূল আমলকে

পূর্বতন বাম এবং তৃণমূল সরকারের পথ অনুসরণ না করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার যাদবপুরের এইট-বি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় ‘দশ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম্’ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে হয় ওই ‘বেয়াদবেরা’ থাকবেন, নয়তো ‘রাষ্ট্রবাদীরা’। দীর্ঘ দিন ধরে যাদবপুরে চলা রাজনৈতিক সমঝোতা ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগানের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাজ্যের বর্তমান প্রশাসনের আমলে এই ধারা আর বরদাস্ত করা হবে না।

এদিন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজা সুবোধচন্দ্র মল্লিক রোডে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি ফটক বন্ধ রাখা হয়। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ র‌্যাম্পে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী অতীতের দুই সরকারকেই তীব্র আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম জমানায় এবং পরবর্তী ১৫ বছরের তৃণমূলের আমলে রাজনৈতিক স্বার্থে যাদবপুরে তথাকথিত ‘সমঝোতা’ ও কমিউনিস্টদের রাজত্ব কায়েম রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, অতীতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আক্রান্ত হওয়া থেকে শুরু করে রাজ্যপালকে অপমান এবং বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন তাঁর গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটলেও তৎকালীন পুলিশমন্ত্রী এবং প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টে নির্বাচনে বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদীর বিরোধিতার বিনিময়ে এই শক্তিকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী ও ভারত-বিরোধী স্লোগান তোলার মারাত্মক অভিযোগ এনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নিট-কেন্দ্রিক বা জনস্বার্থের কর্মসূচিতেও দেশের পক্ষে স্লোগান না দিয়ে ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ বা পাকিস্তানি হানা বন্ধের দাবি তোলা হয়। হোস্টেল থেকে জোর করে পড়ুয়াদের মিছিলে নিয়ে গিয়ে চে গেভারার টি-শার্ট পরানো এবং অসম্মতি জানালে ভয় দেখানোর মতো গুরুতর অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘কিসের আজাদি চান? হেরোইন, গাঁজা, ড্রাগ নেওয়ার আজাদি?’’ সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, নন্দীগ্রাম থেকে কমিউনিস্ট এবং জঙ্গলমহল থেকে যেমন মাওবাদীদের সাফাই করা হয়েছে, তেমনই যাদবপুরেও জঞ্জাল সাফাই করা হবে। আর্টস হোস্টেলের দেওয়ালে দেশবিরোধী দেওয়াল লিখন এবং নেশার কারবারের বিরুদ্ধে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানোর কথাও জানান পুলিশমন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী।

মূল অনুষ্ঠানের শুরুতে খালি পায়ে জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে হাজার কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম্’ গানে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী। রাষ্ট্রবাদের বন্ধন অটুট করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এই কড়া বার্তার পর রাজ্য রাজনীতিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.