দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক আগের রাতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে বিশেষ বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ অগ্রবাল। ডায়মন্ড হারবারের বিতর্কিত পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মার ভূমিকা নিয়ে শাসকদলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তাঁর পাশেই দাঁড়িয়েছেন সিইও।
পর্যবেক্ষকের পাশে সিইও: পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয়পাল শর্মার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ‘হুঁশিয়ারি’ দেওয়া এবং মহিলাদের হেনস্থার যে অভিযোগ তৃণমূল তুলেছে, তা নিয়ে মনোজ অগ্রবাল বলেন, “অজয় পাল শর্মা কাউকে সরাসরি কোনো নির্দেশ দেননি। ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেই তিনি কিছু মন্তব্য করেছিলেন। তিনি তাঁর সীমারেখা সম্পর্কে অবগত।” সিইও জানিয়েছেন, যদি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তবে তাঁরা নামসহ তা কমিশনকে জানালে যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে গভীর রাতে পর্যবেক্ষকের পরিদর্শন নিয়ে যে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা পড়েনি বলেই জানিয়েছেন সিইও।
ভোটের প্রস্তুতির খতিয়ান: আগামী বুধবার ১৪২টি আসনে দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। এই পর্যায়ের প্রস্তুতি সম্পর্কে সিইও জানান:
- সজাগ কমিশন: ভোটের আগের সারা রাত সিইও নিজে দফতরে থাকবেন। তাঁর সঙ্গে থাকবেন বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত এবং বিশেষ পুলিশ পর্যবেক্ষক এনকে মিশ্র।
- থানাভিত্তিক বৈঠক: মঙ্গলবার রাতেই রাজ্যের সব থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (ওসি) এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসছে কমিশন।
- নিরাপত্তা ব্যবস্থা: দ্বিতীয় দফার ভোটে স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা ৩০ শতাংশ। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে পূর্বপরিকল্পিত বাহিনীর চেয়েও অধিক সংখ্যক বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।
আইনি পদক্ষেপ ও গ্রেফতারি: রাজ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে কমিশন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। সিইও জানান, এখন পর্যন্ত রাজ্যে প্রায় ৩,০০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে বাইকের ‘গ্রুপ রাইডিং’ বা দল বেঁধে যাতায়াতের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল, তা বহাল থাকছে। জনস্বার্থ ও ভয়মুক্ত পরিবেশ বজায় রাখাই কমিশনের মূল লক্ষ্য।
মনোজ অগ্রবাল স্পষ্ট করেছেন, সমস্ত নির্বাচনী আধিকারিক কমিশনের অধীনে রয়েছেন এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে কমিশন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে দ্বিধাবোধ করবে না। দ্বিতীয় দফার হাই-ভোল্টেজ ভোটের আগে সিইও-র এই বার্তা অবাধ নির্বাচনের প্রত্যাশায় থাকা সাধারণ মানুষের কাছে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।

