হরমুজ সঙ্কটে ব্রিটেনের কূটনৈতিক উদ্যোগ: ভারতসহ ৩৫ দেশকে আলোচনার আমন্ত্রণ

হরমুজ সঙ্কটে ব্রিটেনের কূটনৈতিক উদ্যোগ: ভারতসহ ৩৫ দেশকে আলোচনার আমন্ত্রণ

গত ২ মার্চ থেকে ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ করে দেওয়ার ফলে বিশ্বজুড়ে যে তীব্র জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে সক্রিয় হল ব্রিটেন। ওয়াশিংটনের সামরিক পথে হাঁটার আবেদন এড়িয়ে গিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার এবার আলোচনার টেবিলকেই বেছে নিলেন। এই উদ্দেশ্যে ভারতসহ প্রায় ৩৫টি দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠকের ডাক দিয়েছে ব্রিটেন।

ভারতের অবস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ

বৃহস্পতিবার বিকেলে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল ব্রিটেনের এই আমন্ত্রণের খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভারতসহ একাধিক রাষ্ট্রকে এই আলোচনায় অংশ নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং ভারতের বিদেশ সচিব বৃহস্পতিবার রাতেই এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন।

জয়সোয়াল বলেন:

“আমরা ইরান এবং পশ্চিম এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ রাখছি। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো এলপিজি, এলএনজি এবং অন্যান্য পণ্যবাহী ভারতীয় জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা। গত কয়েকদিনের কূটনৈতিক আলোচনার ফলে ছয়টি ভারতীয় জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার হতে পেরেছে।”

ট্রাম্পের আক্রমণ ও ব্রিটেনের পাল্টা কৌশল

সম্প্রতি ব্রিটিশ সরকার ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সামরিক অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকার করায় কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি খোঁচা দিয়ে লেখেন, যারা অভিযানে যোগ দেয়নি, তারা যেন সাহস সঞ্চয় করে নিজেরাই নিজেদের তেল নিয়ে আসে। আমেরিকা আর কাউকে সাহায্য করবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ট্রাম্পের এই চরমপন্থি অবস্থানের বিপরীতে দাঁড়িয়েই ব্রিটেন এখন আলোচনার মাধ্যমে ইরানকে নমনীয় করার পথে হাঁটছে।

বৈশ্বিক জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা

২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই অচলাবস্থার জেরে কুয়েত ও ইরাকের মতো তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA)-র প্রধান ফাতিহ বিরোল আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, দ্রুত এই জট না কাটলে এপ্রিল মাসে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। ট্রাম্প ইতিমধ্যে ইরানের তেল খনি ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করার হুমকি দিলেও তেহরান এখনও নিজেদের অবস্থানে অনড়।

উপসংহার

লন্ডনের এই উদ্যোগ কি পারবে ট্রাম্পের রণংদেহী মেজাজ এবং ইরানের জেদ—এই দুইয়ের মাঝে একটি মধ্যপন্থা খুঁজে বের করতে? কূটনৈতিক মহলের নজর এখন ব্রিটেনের আয়োজিত এই ৩৫ জাতির বৈঠকের দিকেই। ভারত এই সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারে কি না, তা-ও এখন দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.