লোকসভা নির্বাচনের মুখে কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। মুর্শিদাবাদে ভোটারদের ভয় দেখানো ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে রাজু মণ্ডল নামে এক তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশনের এই কঠোর দাওয়াই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগের নেপথ্যে
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ধৃত রাজু মণ্ডল তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে প্রচার করার সময় প্রকাশ্যেই ভোটারদের শাসানি দিচ্ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ভোটারদের পদ্ম শিবিরে ভোট না দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।
প্রচারের সময় রাজু মণ্ডলের বিতর্কিত বয়ান ছিল:
“পদ্মফুলে ভোট দেওয়া যাবে না। যদি ভোট গণ্ডগোল হয়েছে… ভোট দিতে যাওয়ার দরকার নেই। বাড়িতে আমি ছানাবড়া, রসগোল্লা পাঠিয়ে দেব। আর না হলে তৃণমূলকে ভোট দিতে হবে। এ বছর যেন ভোট নষ্ট না হয়!”
এই ভিডিও বা বক্তব্যের তথ্য কমিশনের হাতে পৌঁছানোর পরেই পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ হয় কমিশন এবং দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ দেয়। শুক্রবার রাতেই পুলিশ অভিযুক্ত নেতাকে হেফাজতে নেয়।
কমিশনের কড়া বার্তা ও প্রশাসনিক রদবদল
নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে একাধিক রদবদল করেছে কমিশন। গত বৃহস্পতিবার রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকেও অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ওপর জোর দেন কমিশনের প্রতিনিধিরা।
উল্লেখ্য, মালদহ কাণ্ডের তদন্তভার এনআইএ-র (NIA) হাতে যাওয়ার পর থেকেই কমিশন আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ভোটারদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে বা কোনো রাজনৈতিক নেতা ভীতি প্রদর্শন করলে যে রেয়াত করা হবে না, রাজু মণ্ডলের গ্রেফতারি তারই প্রতিফলন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
পরবর্তী পদক্ষেপ
রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং মুখ্যসচিবকে ইতিমধ্যেই কমিশন নির্দেশ দিয়েছে যাতে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। তৃণমূল নেতাদের নিরাপত্তা ও পুলিশের অতিসক্রিয়তা নিয়েও গত কয়েকদিনে প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। এই পরিস্থিতিতে মুর্শিদাবাদের এই গ্রেফতারি রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তের রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে একটি সতর্কবার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
অবাধ, স্বচ্ছ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করাই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য।

