বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দীর্ঘ দুই দশকের বিরতি শেষে দলটি এককভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরতে চললেও সরকার গঠনে দেখা দিয়েছে সাময়িক আইনি জটিলতা। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাত থেকে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি আগামী সোমবারের আগে সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয় বলে জানা গেছে।
নির্বাচনোত্তর আসন বিন্যাস
গত বৃহস্পতিবার ২৯৯টি আসনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ৩০০ আসনের সংসদে বিএনপি এককভাবে ২১২টি আসনে জয়লাভ করেছে। তাদের জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য শরিকরা পেয়েছে ৭৭টি আসন। বাকি আসনগুলোর মধ্যে ৮টি অন্যান্যদের ঝুলিতে গেছে। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে ২৯৭টি আসনের ফলাফল বেসরকারিভাবে ঘোষণা করেছে এবং শুক্রবার রাতে সরকারি গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। বাকি দুটি আসনের ফলাফল আইনি কারণে স্থগিত থাকলেও সেখানে বিএনপি প্রার্থীরাই এগিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
শপথ গ্রহণ ও সাংবিধানিক জটিলতা
নির্বাচনে জয়ী হলেও সংবিধানের মারপ্যাঁচে আটকে আছে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ। সংবিধান অনুযায়ী, নির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ করানোর দায়িত্ব স্পিকারের। তবে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর পদত্যাগ করে বর্তমানে জনসমক্ষে নেই। অন্যদিকে, ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বর্তমানে কারাবন্দি।
বাংলাদেশের সংবিধানের বিধান অনুযায়ী:
- নতুন স্পিকার দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত বিদায়ী স্পিকারই পদে বহাল থাকেন।
- স্পিকার বা তাঁর মনোনীত ব্যক্তি অনুপস্থিত থাকলে গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে শপথ পাঠ করানো সম্ভব না হলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে সেই দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)।
এই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে গেজেট প্রকাশের পর অন্তত তিন দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ফলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসিরউদ্দিনের মাধ্যমে শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আগামী সোমবার বা মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
“সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাতে পারছেন না। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে কোনো বিকল্প প্রস্তাব এলে সরকার তা বিবেচনা করে দেখবে।” — প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর সূত্র (প্রথম আলো মারফত)
আগামীর চ্যালেঞ্জ
তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের প্রস্তুতি শুরু হলেও সামনে রয়েছে একাধিক কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ বিহীন এই সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা এবং প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে সম্পর্কের সমীকরণ কোন পথে হাঁটবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
সব ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহের শুরুতেই নতুন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

