মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য হতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বঙ্গতনয় সৈকত চক্রবর্তী , ট্রাম্পকে রুখতে কী কী করতে হবে? ছকছেন তা-ও

সম্প্রতি চার দশকের রাজনৈতিক জীবন থেকে অবসর নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির অশীতিপর নেত্রী ন্যান্সি পেলোসি। ক্যালিফর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো থেকে দীর্ঘ দিন ধরে নির্বাচিত হয়ে আসছেন মার্কিন আইনসভার নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টিটিভসের প্রাক্তন স্পিকার পেলোসি। তাঁর অবর্তমানে সান ফ্রান্সিসকো থেকে জিতে আমেরিকার আইনসভায় পা রাখতে উৎসাহী অনেকেই। ডেমোক্রেটিক পার্টির যে সব সদস্য এই লড়াইয়ের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছেন, তাঁদের মধ্যে প্রথমেই রয়েছেন বঙ্গতনয় সৈকত চক্রবর্তী।

কে এই সৈকত চক্রবর্তী

আমেরিকার টেক্সাসে বাঙালি পরিবারে জন্ম সৈকতের। ৩৯ বছর বয়সি এই যুবক ২০০৭ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক হন। পেশাগত জীবনে প্রবেশ করার কিছু দিন পরেই সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। মার্কিন আইনসভার সদস্য ওকাসিও কর্টেজ় এবং আমেরিকার ভারমন্ট প্রদেশের সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা হিসাবেও কাজ করেছেন তিনি। রাজনৈতিক পরামর্শদাতার ভূমিকা ছেড়ে এ বার নিজেই সরাসরি ভোট-রাজনীতির ময়দানে নামতে চাইছেন সৈকত।

কী পরিকল্পনা সৈকতের

নতুনদের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্য পেলোসিকে ধন্যবাদ জানিয়ে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত সৈকত। সেখানে তিনি নিজের পরিচয় দিয়ে জানাচ্ছেন যে, সমাজের সব অংশের জন্য কাজ করতে চান তিনি। নিজের দল ডেমোক্রেটিক পার্টিকে নিয়েও বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে সৈকতের। তিনি জানিয়েছেন, বারাক ওবামা-জো বাইডেনদের দলে সংস্কার প্রয়োজন। কয়েক দিন আগেই একটি সাক্ষাৎকারে সৈকত জানিয়েছিলেন যে, তিনি মনে করেন ডেমোক্র্যাটরা সে ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না-পারার জন্যই ট্রাম্প দ্বিতীয় বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। ডেমোক্রেটিক পার্টিতে ভুলটা কী হচ্ছে, তা জানতে চাইলে পেলোসিও কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি বলে দাবি করেন সৈকত।

পেলোসি জানিয়েছেন, ২০২৬ সালে মার্কিন কংগ্রেসের নির্বাচনে তিনি আর দাঁড়াবেন না। পেলোসির ছেড়ে যাওয়া আসন থেকে জয়ী হতে গেলে সৈকতকে অবশ্য প্রথমে ডেমোক্রেটিক দলের তরফে মনোনয়ন পেতে হবে। তাঁকে প্রতিযোগিতায় ফেলতে প্রস্তুত ক্যালিফর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট সেনেটর স্কট উইয়েনার এবং পেলোসির কন্যা ক্রিস্টিন পেলোসি। দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে শেষমেশ বিরোধী দলের প্রার্থীকে হারিয়ে সৈকত ক্যাপিটল হিলে ঢুকতে পারবেন কি না, তা-ই এখন দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.