দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার নিয়ে বিতর্ক: বাগেশ্বরধামের মন্তব্যের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন সঞ্জীব সান্যাল ও শমীক ভট্টাচার্য

দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার নিয়ে বিতর্ক: বাগেশ্বরধামের মন্তব্যের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন সঞ্জীব সান্যাল ও শমীক ভট্টাচার্য

মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বরধামের পীঠাধ্যক্ষ ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর দুর্গাপুজোয় আমিষ খাবার বর্জনের আহ্বান নিয়ে রাজ্যজুড়ে তৈরি হওয়া বিতর্কে এ বার সরব হলেন প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম অর্থনৈতিক উপদেষ্টা সঞ্জীব সান্যাল। সোমবার সমাজমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, হিন্দুধর্মের শাক্তমতে মাংস একটি অপরিহার্য অঙ্গ এবং প্রাচীন রীতি মেনেই দেবী দুর্গা ও কালীকে মাংসভোগ নিবেদন করা হয়। নবমী বা দশমীতে ভক্তেরা প্রসাদ হিসেবেই তা গ্রহণ করেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই পবিত্র রীতিতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না।

এর আগে সোমবার একই বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করে রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও মন্তব্য করেন। বাগেশ্বরধাম-প্রধানের নিরামিষ নিদানের বিরোধিতা করে তিনি জানান, বাংলার মানুষ ঐতিহ্য মেনেই নবমীর দিন পাঁঠার মাংস বা অষ্টমীতে লুচি খান এবং খাওয়া-দাওয়া নিয়ে বাঙালিদের নতুন করে কিছু শেখানোর নেই। কোনো সাধুর ব্যক্তিগত মন্তব্যের জেরে সাধারণ মানুষের খাদ্যাভ্যাস জোর করে বন্ধ করা যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত রবিবার হাওড়ার লিলুয়ায় এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী দাবি করেছিলেন যে, পশ্চিমবঙ্গের দুর্গাপুজোয় প্যান্ডেলের পেছনে আমিষ খাবার তৈরি ও বিক্রি করা হয়, যা তাঁর অপছন্দ। তিনি কলকাতার হিন্দুদের এই ধরনের প্রথার বিরুদ্ধে জেগে ওঠার এবং নবরাত্রির সময়ে প্রতিমার আশেপাশে আমিষ বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার অনুরোধ জানান। এর আগে বিশ্ব হিন্দু পরিষদও (ভিএইচপি) পুজোমণ্ডপের ভিতরে সাত্ত্বিক আচার মেনে শুধুমাত্র নিরামিষ ভোগ নিবেদনের নির্দেশিকা দিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করেছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.