কিরগিজ়স্তানের রাজধানী বিশকেকে অনুষ্ঠিত ২৬তম ‘শাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজ়েশন’ (এসসিও)-এর শীর্ষসম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও পার্শ্ববৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই বৈঠকের পরই ফের একবার বিশ্ব রাজনীতিতে দুই রাষ্ট্রনেতার ‘গাড়ি-কূটনীতি’ নজরে এল। পুতিনের লিমুজ়িনে সওয়ার হয়েই মোদী রওনা দেন ‘বিশ্ব যাযাবর ক্রীড়া’ (ওয়ার্ল্ড নোমাড গেমস্)-র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে।
বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশকেকে অনুষ্ঠিত এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে নয়াদিল্লি ও মস্কোর পারস্পরিক সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ক্ষেত্র, পরমাণু সহযোগিতা, মহাকাশ গবেষণা, সার এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি পার্শ্ববৈঠকে স্থান পায়। একইসঙ্গে, আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১৮তম ব্রিকস শীর্ষসম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।
কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, একই দিনে ইরান ও রাশিয়ার রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে মোদীর এই ধারাবাহিক বৈঠক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত বহন করছে। ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় মোদী পুনরায় স্পষ্ট করে দেন যে বর্তমান সময় যুদ্ধের নয়। তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধের প্রতিটি দিন মানবজাতিকে পিছিয়ে দিচ্ছে এবং বিশ্বকে সংঘাতের পথ থেকে সরে এসে শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে এগোতে হবে। ভারত যে সর্বদা আলোচনার মাধ্যমে যে কোনও সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বাসী, সে কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২২ সালে উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠিত এসসিও বৈঠকেও পুতিনকে একই বার্তা দিয়েছিলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী।

