যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভের চেষ্টা, সিজেপির সৌরভ-আশুতোষের জেল হেফাজত আরও দু’দিন বাড়ল

যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভের চেষ্টা, সিজেপির সৌরভ-আশুতোষের জেল হেফাজত আরও দু’দিন বাড়ল

প্রতিবাদস্থল হিসেবে নিষিদ্ধ যন্তর মন্তরে প্রবেশ করে বিক্ষোভের আয়োজনের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র দুই আহ্বায়ক সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা। প্রথমে তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছিল। সোমবার স্পেশ্যাল এগ্‌জ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট তাঁদের জেল হেফাজতের মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে।

কেন সৌরভ ও আশুতোষের জেল হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানো হল, তা লিখিত নির্দেশে ব্যাখ্যা করেছেন স্পেশ্যাল এগ্‌জ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ঋতু রাজ। পুলিশি তদন্তের কথা উল্লেখ করে নির্দেশে জানানো হয়েছে, নিষিদ্ধ যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দেখানোর উদ্দেশ্যে জমায়েত করেছিলেন সিজেপি নেতারা। পাশাপাশি, ওই বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে প্ররোচিত করার অভিযোগও উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে।

দিল্লি পুলিশের দাবি, সিজেপি নেতৃত্ব শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করবেন না বলে বন্ডে স্বাক্ষর করেছিলেন। কিন্তু তার পরেও সমাজমাধ্যমে যন্তর মন্তরে জমায়েতের ডাক দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আদালতের লিখিত নির্দেশে বলা হয়েছে, সমস্ত শর্ত মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েই সিজেপি নেতারা বিক্ষোভের অনুমতি পেয়েছিলেন। কিন্তু তাঁরা সেই শর্ত মানতে ব্যর্থ হয়েছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সৌরভ ও আশুতোষের আচরণ থেকে মনে হয়েছে, তাঁরা আইনের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধাশীল নন এবং ভবিষ্যতে ফের আইনভঙ্গ করতে পারেন।

অন্য দিকে, সৌরভ ও আশুতোষের আইনজীবীরা তাঁদের মক্কেলদের দ্রুত জামিন দেওয়ার আবেদন জানান। ভবিষ্যতে তাঁরা কোনও আইনভঙ্গ করবেন না বলেও আদালতকে আশ্বাস দেওয়া হয়। আইনজীবীদের দাবি, দুই নেতা আলাদা আলাদা ভাবে যন্তর মন্তরে গিয়েছিলেন।

আদালতের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে সিজেপির তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, দলের নেতাদের বিরুদ্ধে যে ভাবে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ করা হচ্ছে, তা ‘আইনি প্রক্রিয়ার প্রহসন এবং প্রশাসনের অতি সক্রিয়তা’ ছাড়া আর কিছু নয়। সৌরভ ও আশুতোষের জামিন না-মঞ্জুর হওয়াকে ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ’ বলেও দাবি করেছে দলটি।

গত ১৩ অক্টোবর সৌরভ ও আশুতোষকে প্রথমে আটক করেছিল দিল্লি পুলিশ। পর দিন, ১৪ অক্টোবর ভোরে সিজেপির আইন বিষয়ক প্রধান রত্না সিংহ জানান, সৌরভ, আশুতোষ এবং অজিঙ্কেকে গ্রেফতার করে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যদিও পরে দিল্লি পুলিশের তরফে জানানো হয়, আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসাবেই তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে। সিজেপির তিন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ এবং সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগ আনা হয়। পাশাপাশি, সৌরভ ও আশুতোষের বিরুদ্ধে বন্ডের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগও তোলে পুলিশ।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১০ অক্টোবর দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পরেই সিজেপি প্রধান অভিজীত দিপকে, সৌরভ এবং আশুতোষকে প্রতিরোধমূলক গ্রেফতার করেছিল দিল্লি পুলিশ। আদালত থেকে এক বছর শান্তি বজায় রাখার শর্তে জামিন পেয়েছিলেন সৌরভেরা। অভিযোগ, তার দু’দিন পরেই তাঁরা ফের নিষিদ্ধ যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেন। আগের বার জামিন পেলেও এ বার তাঁদের জেল হেফাজতে থাকতে হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.