যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিয়োনেল মেসির অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কে এবার আরও চাপ বাড়ল রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ওপর। প্রথমবার হাজিরা এড়ানোর দু’দিনের মাথায় শনিবার পুনরায় তাঁকে তলব করল বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। আগামী ৮ জুন, সোমবার তাঁকে থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনা ও বিতর্কের সূত্রপাত
যুবভারতীতে আর্জেন্টিনা তথা বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিয়োনেল মেসির একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে, স্টেডিয়ামে মেসিকে ঘিরে এক শ্রেণির মানুষের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে হাজার হাজার টাকার টিকিট কিনেও বহু সাধারণ দর্শক তাঁকে দেখার সুযোগ পাননি। এই ঘটনায় তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। বিতর্কের জেরে পরবর্তীতে তিনি ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হন।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ প্রথমে ওই অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করে। তবে বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত রয়েছেন।
জামিন পেয়েই পাল্টা অভিযোগ শতদ্রুর
কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আয়োজক শতদ্রু দত্ত প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।
অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বা সংশ্লিষ্ট আইন) মোট পাঁচটি গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে:
- অভিন্ন উদ্দেশ্য – ধারা ৩(৫)
- তোলাবাজি – ধারা ৩০৮(২)
- প্রতারণা – ধারা ৩১৮(৪)
- অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন – ধারা ৩৫১(২)
- অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র – ধারা ৬১(২)
আইনি লড়াই ও পুলিশের তৎপরতা
এই এফআইআর দায়ের হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) অরূপ বিশ্বাসকে প্রথমবার তলব করেছিল পুলিশ। তবে তিনি নিজে হাজিরা না দিয়ে আইনজীবীর মারফত চিঠি পাঠিয়ে ১৪ দিনের সময় চেয়েছিলেন।
হাইকোর্টের শুনানি ও পুলিশের কৌশল: সূত্রের খবর, এফআইআর রুজু হওয়ার পরই কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছেন অরূপ বিশ্বাস। আগামী ৯ জুন সেই মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। আইনি রক্ষাকবচ পাওয়ার লক্ষ্যেই প্রাক্তন মন্ত্রী সময় চেয়েছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু সেই শুনানির ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ ৮ জুন সোমবারই তাঁকে পুনরায় তলব করে চাপ বজায় রাখল বিধাননগর পুলিশ।

