দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ় নিশ্চিত করেছিল ভারত। তবে বৃহস্পতিবার সিরিজের শেষ তথা নিয়মক্ষার ম্যাচেও ব্যাটে-বলে নিজেদের পরাধীন আধিপত্য বজায় রাখল টিম ইন্ডিয়া। অভিষেক শর্মা এবং সঞ্জু স্যামসনের মারকাটারি ব্যাটিংয়ের সুবাদে আফগানিস্তানকে ১২৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ় চুনকাম করল ভারত। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দুই দলের শক্তির পার্থক্য এদিন আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল।
ভারতের ইনিংস: অভিষেক-সঞ্জুর তাণ্ডব
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ওভারে ৭ উইকেটে ২২১ রান তোলে ভারত। আফগান বোলারদের পাড়ার স্তরে নামিয়ে এনে শুরু থেকেই আক্রমণ চালান দুই ওপেনার।
- অভিষেকের বিশ্বরেকর্ড ও রেকর্ড ভাঙা ইনিংস: মাত্র ৩৪ বল খেলে ১০৮ রানের এক ঐতিহাসিক ইনিংস খেলেন অভিষেক শর্মা। ১৬ বলে অর্ধশতরান এবং মাত্র ৩০ বলে শতরান পূর্ণ করে তিনি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে রোহিত শর্মার রেকর্ড ভেঙে দেন। তাঁর এই ইনিংসে ছিল ১১টি ছক্কা ও ৯টি চার (অর্থাৎ বাউন্ডারি থেকেই আসে ১০২ রান)। রশিদ খানের বলে উইকেটকিপার রহমানুল্লাহ গুরবাজ়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে তিনি আউট হন।
- পাওয়ার প্লে-তে ঝড়: দ্বিতীয় ওভার থেকেই চড়াও হন অভিষেক। মহম্মদ নবির এক ওভারে আসে ২৯ রান। দুই ওপেনারের তাণ্ডবে মাত্র পাওয়ার প্লে-তেই ভারতের স্কোর ১০০ রান পার করে।
- অন্যান্য ব্যাটাররা: সঞ্জু স্যামসন অর্ধশতরান (৫০ রান) করে আউট হন। তবে তিলক বর্মা (২), শিবম দুবে (১৪) এবং ঈশান কিশন (১০) বড় রান পাননি। অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার শেষ দিকে দায়িত্ব নিয়ে খেলে ২৯ রান করেন। শেষ ৫ ওভারে ভারতের রান তোলার গতি কিছুটা শ্লিম হলেও স্কোরবোর্ডে ২২১ রান তোলে দল। আফগানিস্তানের পক্ষে রশিদ খান সফল বোলার হলেও সামগ্রিক বোলিং আক্রমণ সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল।
আফগানিস্তানের ব্যাটিং ধস ও জয়
২২২ রানের পাহাড়প্রমাণ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা আগ্রাসী করলেও তা ধরে রাখতে পারেনি আফগানিস্তান। মাত্র ৩ ওভারে ৩১ রান তোলার পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে তাদের ব্যাটিং।
- রহমানুল্লাহ গুরবাজ় (১৫) ও ইব্রাহিম জ়াদরান (২৫) আউট হওয়ার পর আফগান ইনিংসে ধস নামে। দলের মাত্র দুই ব্যাটার দুই অঙ্কের রান ছুঁতে সক্ষম হন। শেষ পর্যন্ত ৯৪ রানেই গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান।
- ভারতের বোলিং বিভাগে নীতীশ রেড্ডি এবং রবি বিশ্নোই ৩টি করে উইকেট নেন। এছাড়া অক্ষর পটেল ২টি এবং জসপ্রীত বুমরাহ ও যশ ঠাকুর ১টি করে উইকেট শিকার করেন।
সিরিজ়ের তিনটি ম্যাচেই ব্যাটিং ও বোলিং—উভয় বিভাগেই ভারতের সঙ্গে পেরে ওঠেনি আফগানিস্তান। রোহিত-বিরাটের অনুপস্থিতিতে তরুণ ভারতীয় দল এই জয়ের মাধ্যমে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব আরও একবার প্রমাণ করল।

